আজকের দিনেবিশ্ব

জ্বালানি সংকটে স্বস্তি দিয়ে ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী মুক্ত করল বন্ধু ইরান

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার মাঝে ভারতের জন্য এল স্বস্তির খবর। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ তথা ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য সম্পূর্ণ মুক্ত করার ঘোষণা করল ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত ছাড়াও রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান এবং ইরাকের জাহাজগুলি নিরাপদে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের লাগাতার আলোচনার পর ইরানের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের বিশাল বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে কারা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে, তা সম্পূর্ণ ইরানের মর্জির ওপর নির্ভর করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী,  ভারত, রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান ও ইরাকের জাহাজগুলি ইতিমধ্যেই নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে গিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের একটি জাহাজকেও এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই দেশগুলি ইরানের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করেছে বলেই তাদের এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আরাঘচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলির জাহাজের জন্য এই পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ ও বিপজ্জনক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে চাপ বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এই আবহে ভারতের জন্য এই বিশেষ ছাড় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। “ইরান যখন আংশিক অবরোধের ঘোষণা করেছিল, তখন অনেকে একে মিথ্যা ভেবেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে ইরান হরমুজের ওপর নিজের শক্তি ও কর্তৃত্ব প্রমাণ করেছে।” — আব্বাস আরাঘচি, বিদেশমন্ত্রী, ইরান। বিগত কয়েক সপ্তাহে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দফায় দফায় কথা বলেছেন ইরানি প্রতিপক্ষ আরাঘচির সঙ্গে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেসকিয়ানের সঙ্গে। এই নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ফলেই জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ ভারতের আকাশ থেকে কেটে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *