বিডিও অফিসে ট্রাইব্যুনাল ও অফলাইন আবেদনের দাবিতে হাইকোর্টে তৃণমূল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: একের পর এক সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং তা থেকে শয়ে শয়ে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্যে যে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, তার কার্যপদ্ধতি আরও সহজ ও বিকেন্দ্রীকরণের দাবি জানিয়েছে শাসকদল।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে যে, ট্রাইব্যুনালের শুনানি যেন কেবল নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ না থাকে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে জেলাশাসক (DM) ও মহকুমা শাসক (SDO)-র দপ্তরের পাশাপাশি প্রতিটি ব্লকের বিডিও (BDO) অফিসেও এই আবেদন গ্রহণ ও শুনানির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্রুত অফলাইন আপিল ব্যবস্থা চালুর জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আর্জি জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে:
আবেদনকারীদের সশরীরে বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।
অফলাইনে আবেদন জমা দিলে আবেদনকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ দিতে হবে।
অনলাইন পোর্টালে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করার বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। সময়ের স্বল্পতার কথা মাথায় রেখে তৃণমূল দাবি করেছে, ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আবেদনের নিষ্পত্তির ফলাফল যেন দৈনিক ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়। এর ফলে ভোটাররা দ্রুত জানতে পারবেন তাঁদের নাম তালিকায় ফিরল কি না। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যাদের নাম বাদ গেছে তারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, বর্তমান প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে আবেদন করা জটিল হয়ে পড়ছে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং যোগ্য ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত করতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এই প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের দাবিতে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।
