আজকের দিনেতিলোত্তমাভারত

ফর্ম ৬ বিতর্কে সুপ্রিম নির্দেশ: নথির সত্যতা যাচাই ছাড়া নাম তোলা যাবে না, স্বস্তিতে মমতা

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দিল্লিঃ রাজ্য রাজনীতিতে এখন তুঙ্গে ‘ফর্ম ৬’ বা ভোটার তালিকায় নাম তোলার লড়াই। বিজেপি বনাম তৃণমূলের এই সংঘাতের আবহে বুধবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নথির যথাযথ সত্যতা যাচাই না করে কোনো নতুন আবেদন বা নথি গ্রহণ করতে পারবে না আপিল ট্রাইব্যুনাল। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে স্বভাবতই স্বস্তিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রাথমিক নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের কাছে আগে দাখিল করা হয়নি এমন কোনো নতুন নথি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করবে না। তবে আবেদনকারীদের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ সংশোধন করে জানায়, সত্যতা যাচাই না করে কোনো নথই গ্রহণ করা চলবে না। এর পাশাপাশি আজ বুধবারই অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় ধরনের আপিল প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী জনসভা থেকেই তিনি বলেন, “আমি আজ খুশি। সুপ্রিম কোর্ট ভালো রায় দিয়েছে। পদ্মফুলের বস্তা দিয়ে ফর্ম ৬ জমা করে বাইরে থেকে নাম ঢোকানো হচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, তা হবে না।”

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন যে, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের বাংলার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। বিজেপি নেতারা ‘বস্তা ভর্তি’ ফর্ম জমা দিচ্ছেন দাবি করে তিনি কমিশনের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের চ্যালেঞ্জও ছোঁড়েন। অন্যদিকে, বুধবার কমিশনে গিয়ে তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, যেখানে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে গিয়েছে, সেখানে একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা দিচ্ছেন?

এই বিতর্কের মুখে কমিশনের যুক্তি, ফর্ম ৬ জমা দেওয়া একটি চলমান বা ‘কন্টিনিউয়াস’ পদ্ধতি। যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় আবেদন করতে পারেন। তবে কমিশন প্রতিটি আবেদন যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়। সুপ্রিম কোর্টের আজকের নির্দেশের পর এই যাচাই প্রক্রিয়া আরও কড়াকড়ি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং বাদ দেওয়া নিয়ে এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই বাংলার ভোট ময়দানকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *