প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিয়োগ করা হয়েছিল লিফটম্যানদের! লালবাজারের জেরায় বিস্ফোরক তথ্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে লিফট ও দেওয়ালের মাঝে পিষ্ট হয়ে নাগেরবাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এল চূড়ান্ত গাফিলতির প্রমাণ। ধৃত তিন লিফটম্যানকে জেরার পর লালবাজারের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, কোনো ধরণের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বা বিপর্যয় মোকাবিলার প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁদের কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল। এমনকি ঘটনার রাতেও কর্তব্যে চরম অবহেলার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্তরা।
পুলিশি জেরায় ধৃত লিফটম্যানরা একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। অভিযুক্তদের দাবি, নিয়োগের সময় তাঁদের কেবল লিফট চালানো এবং যান্ত্রিক গোলযোগে লিফট আটকে গেলে লিভার টেনে তা উপরে তোলার প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হয়েছিল। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়, সে বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সংস্থাকে লিফট দেখভালের বরাত দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা জানিয়েছেন, রাতে সুপারভাইজার না থাকায় ডিউটির সময় তাঁরা কেউ ঘুমিয়ে থাকতেন, কেউ বা আড্ডায় ব্যস্ত থাকতেন। দুর্ঘটনার সময়ও লিফটের আশেপাশে কেউ ছিলেন না। চিৎকার শুনে অভিযুক্তরা প্রথমে মনে করেছিলেন পরিবারটি লিফটের ভিতরে আটকে আছে। তাঁরা বুঝতে পারেননি যে অরূপবাবু লিফট ও গ্রিলের মাঝে আটকে রয়েছেন। না বুঝেই তাঁরা লিভার টেনে লিফটটি উপরে তুলতে শুরু করেন, যার ফলে দেওয়াল ও লিফটের মাঝে পিষ্ট হয়ে অরূপবাবুর মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা গেছে, পিডব্লিউডি গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে একটি নতুন সংস্থাকে লিফটম্যান নিয়োগের বরাত দিয়েছিল। মাত্র এক মাস আগে নিয়োগ হওয়া এই কর্মীদের কোনো রকম সুরক্ষা প্রশিক্ষণ কেন দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। “অভিযুক্তদের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিয়োগ করা হয়েছিল। এই গাফিলতির দায় কার, তা জানতে এবার সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্তৃপক্ষকে জেরা করা হবে।” — তদন্তকারী আধিকারিক, লালবাজার।
