আজকের দিনেবাংলার আয়না

Siliguri-Helmet : হেলমেটহীন বাইকচালকের সামনে ‘যমরাজ’, শিলিগুড়িতে ট্রাফিক পুলিশের কড়া অভিযান !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা ,নিজস্ব প্রতিনিধি :- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পরেই তৎপর প্রশাসন। ট্রাফিক আইন অমান্য করলে এবার আর কোনও ছাড় নয়, এই বার্তা স্পষ্ট করতেই মঙ্গলবার শিলিগুড়ির রাজপথে নামল বিশাল ট্রাফিক পুলিশ বাহিনী। শহরের যানজট নিরসন ও পথদুর্ঘটনা রোধে ইস্টার্ন বাইপাস-সহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় চলল দিনভর বিশেষ তল্লাশি ও সচেতনতা অভিযান।

আশিঘর সাব ট্রাফিক গার্ডের উদ্যোগে এদিন ইস্টার্ন বাইপাস, বানেশ্বর মোড় ও ভবেশ মোড় এলাকায় ব্যাপক পুলিশি মোতায়েন করা হয়। অভিযানে মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, হেলমেট ছাড়া দ্বিচক্রযান চালানো। দ্বিতীয়ত, বাইকে তিন আরোহী নিয়ে যাত্রা অর্থাৎ বিপজ্জনক ট্রিপল রাইডিং। তৃতীয়ত, চালকের লাইসেন্স, গাড়ির বিমা, দূষণ সার্টিফিকেট-সহ সমস্ত বৈধ নথিপত্র খতিয়ে দেখা।

সচেতনতামূলক অভিযানের প্রথম দিন হওয়ায় পুলিশ কিছুটা মানবিক অবস্থান নেয়। হেলমেটবিহীন চালকদের রাস্তায় আটকে প্রথমে ট্রাফিক আইনের গুরুত্ব বোঝানো হয়। কেন হেলমেট পরা আবশ্যক, দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত কতটা মারাত্মক হতে পারে, সে বিষয়ে হাতেকলমে পাঠ দেন কর্তব্যরত আধিকারিকরা। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “আজ আমরা সচেতন করছি। কাউকে কেস দেওয়া হয়নি। কিন্তু আগামীকাল থেকে নিয়ম ভাঙলেই মোটর ভেহিকলস আইন অনুযায়ী কঠোর জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযানে শুধু আইনি কড়াকড়িই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিতে অভিনব পন্থাও নেয় ট্রাফিক পুলিশ। ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন ভবেশ মোড় এলাকায় মাইকে প্রচার চালানো হয়, “ট্রাফিক আইন অমান্য করলেই আসবে যমরাজ।” প্রতীকী অর্থে মৃত্যুদূতের উল্লেখ করে পথচারী ও চালকদের মধ্যে ভয় ও সচেতনতা দুই-ই জাগিয়ে তোলার চেষ্টা হয়। রাস্তার পাশে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকর্মীদের এই অভিনব প্রচার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন, ভিডিয়ো করেছেন। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে শহর ও শহরতলিতে বাইক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ মাথায় গুরুতর আঘাত এবং চালকের মাথায় হেলমেট না থাকা। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশের পর তাই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে প্রশাসন। শুধু শিলিগুড়ি নয়, জেলার সমস্ত মহকুমাতেও এই ধরনের লাগাতার অভিযান চলবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন দাস বলেন, “এই উদ্যোগ খুব দরকার ছিল। রোজই দেখি ছেলেরা হেলমেট ছাড়া বাইক চালাচ্ছে। তিনজন বসে স্টান্ট করছে। পুলিশ কড়া হলে তবেই যদি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।” তবে কয়েকজন বাইকচালক আবার অভিযোগ করেন, প্রথম দিনেই জরিমানা না করে সতর্ক করাটা ভালো সিদ্ধান্ত।

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ‘নো কম্প্রোমাইজ’ নীতি নিল শিলিগুড়ি ট্রাফিক পুলিশ। প্রথম দিনের সচেতনতা অভিযানের পর এবার কঠোর আইনি পদক্ষেপের পালা। ‘যমরাজ’-এর প্রতীকী উপস্থিতিতে শহরবাসীকে হেলমেট পরার বার্তা দিল প্রশাসন। ট্রাফিক বিধি মেনে চলাই যে জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথ, সেই বার্তা এখন শিলিগুড়ির প্রতিটি মোড়ে। আগামী দিনে এই অভিযান আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *