পকেট খালি হবে ইউজারদের? মেটার নতুন ‘পেইড’ চালে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজডেস্ক: ফেসবুকের পাতা ওল্টানো হোক বা ইনস্টাগ্রামের রিলস স্ক্রোলিং, কিংবা সকাল-সাজ হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিং— এতদিনের চেনা অভ্যাস এবার বদলে যেতে চলেছে। এতদিন যা ছিল সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’, এবার তার কিছু প্রিমিয়াম সুবিধার জন্য পকেট থেকে খসাতে হবে গ্যাঁটের কড়ি! সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ‘মেটা’ (Meta) তাদের তিন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম— ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নিয়ে এলো নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান। মেটার এই আকস্মিক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কত খরচ করতে হবে? (ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস)
মেটার প্রোডাক্ট হেড নাওমি গ্লাইট গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে এই নতুন ‘প্লাস’ সংস্করণের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। আমেরিকা-সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যেই এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
আমেরিকার বাজারের নিরিখে এই প্লাস প্ল্যানগুলির মাসিক খরচ এবং ভারতীয় মুদ্রায় তার আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী
ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও ফেসবুক প্লাসের জন্য প্রতি মাসে খরচ হবে ৩.৯৯ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যেটা প্রায় ৩৪০-৩৮৭ টাকা। অন্য দিকে হোয়াট্সঅ্যাপ প্লাসের জন্য মাসে ২.৯৯ ডলার এ দেশের অর্থে যেটা প্রায় ২৫৫ টাকার সমান।
জরুরি তথ্য: ভারতীয় বাজারের জন্য এখনও নির্দিষ্ট কোনো প্রাইস ট্যাগ ঘোষণা করেনি মেটা। তবে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে এই পরিষেবা খুব দ্রুত রোল-আউট করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপনের ভরসা ছেড়ে ‘প্লাস’ মডেলে কেন মেটা?
টেক বিশ্লেষকদের মতে, মেটা তাদের চিরাচরিত শুধু বিজ্ঞাপন-নির্ভর ব্যবসার মডেল থেকে এবার কিছুটা সরে আসতে চাইছে। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে কৃত্রিম মেধা (AI) প্রযুক্তির পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্ক জুকেরবার্গ।
-
বিপুল লগ্নি: মেটা চলতি বছরেই প্রায় ১২,৫০০ কোটি থেকে ১৪,৫০০ কোটি ডলার খরচ করতে চলেছে।
-
ডেটা সেন্টার: এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হবে বিশাল বিশাল তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য।
-
রাজস্বের নতুন উৎস: এই বিপুল খরচের জোগান দিতেই এখন প্রিমিয়াম ফিচার ও উন্নত এক্সপিরিয়েন্সের বিনিময়ে ইউজারদের থেকে মাসিক ফি নেওয়ার এই নতুন রাস্তা বেছে নিয়েছে সংস্থাটি।
টাকা দিলে কী কী বাড়তি সুবিধা বা ‘প্রিমিয়াম ফিচার’ মিলবে?
টেকক্রাঞ্চের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, যাঁরা টাকা দিয়ে প্লাস মেম্বারশিপ নেবেন, তাঁদের চ্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে বেশ কিছু এক্সক্লুসিভ টুল ও কাস্টমাইজেশন ফিচার দেবে হোয়াটসঅ্যাপ:
-
কাস্টম থিম: চ্যাট স্ক্রিন নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ।
-
নিজস্ব রিংটোন: পছন্দের চ্যাটের জন্য কাস্টমাইজড টিউন।
-
প্রিমিয়াম স্টিকার: সাধারণ ইউজারদের চেয়েও আকর্ষণীয় ও এক্সক্লুসিভ স্টিকার প্যাক।
-
অতিরিক্ত চ্যাট পিন: সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি চ্যাট পিন করে রাখার সুবিধা।
অন্য দিকে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্লাসের ক্ষেত্রে কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সাধারণ ইউজাররা এমন কিছু এক্সক্লুসিভ টুল ও কাস্টমাইজেশন ফিচার পাবেন, যা ফ্রি ভার্সনে কোনোভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের রিচ বা আয়ে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে।
ফ্রি ইউজারদের কি তবে কপাল পুড়ল?
পেইড সাবস্ক্রিপশন চালুর কথা শুনে সাধারণ ইউজারদের মনে আতঙ্ক তৈরি হলেও মেটা আশ্বস্ত করেছে যে, বিনামূল্যের সাধারণ অ্যাপগুলি এখনই বন্ধ হচ্ছে না। নাওমি গ্লাইট স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা সাধারণ ফিচারের বাইরে গিয়ে বাড়তি ও আধুনিক প্রিমিয়াম টুলের সুবিধা নিতে চান, এই ‘প্লাস’ প্ল্যানটি শুধুমাত্র তাঁদের জন্য। ফলে যাঁরা টাকা খরচ করতে চান না, তাঁরা আগের মতোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, ‘প্লাস’ ইউজারদের এক্সক্লুসিভ ফিচারগুলোর স্বাদ থেকে তাঁরা বঞ্চিতই থেকে যাবেন।
