ক’জন শিক্ষক টেট পাশ? ৩২ হাজার চাকরি মামলায় জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দিল্লি:- রাজ্যের প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলাটি শেষপর্যন্ত গ্রহণ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় জড়িত সমস্ত পক্ষকে নোটিস জারি করেছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামী অগাস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
মামলাটি গ্রহণ করার সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘‘আমাদের শিশুরা যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের থেকে শিক্ষা পাচ্ছেন কিনা, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই চাকরি পাওয়া কতজন শিক্ষক টেট পাশ করেছেন।’’
তবে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর দিয়ে আদালত জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর এখনই কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত যাঁরা বর্তমানে চাকরি করছেন, তাঁরা নিজেদের পদে বহাল থাকবেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস
২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তার মাধ্যমে নিযুক্ত এই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা।
এই মামলার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং আইনি লড়াইয়ে ঠাসা:
-
মে ২০২৩ (চাকরি বাতিল): ২০২৩ সালের ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি (বর্তমানে বিজেপি সাংসদ) অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ঐতিহাসিক নির্দেশ দেন।
-
ডিভিশন বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্ট: প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং রাজ্য সরকার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেলেও সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ই বহাল থাকে। এরপর কর্মরত শিক্ষক ও পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে তৎকালীন রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে ফেরত পাঠানো হয়।
-
২০২৫-এর শুনানি: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শেষ হয় এবং পরবর্তীতে চাকরি বহালের রায় দেওয়া হয়।
এবার সেই হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বঞ্চিতদের করা মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করায়, আগামী অগাস্ট মাসের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহল।
