আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

বঙ্গ বিজেপিতে ‘গৃহযুদ্ধ’: সুনীল বনসল-শমীককে বিঁধে বিদ্রোহ গেরুয়া শিবিরে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভের আগ্নেয়গিরিতে দাঁড়িয়ে বঙ্গ বিজেপি। এবার সেই অসন্তোষ সরাসরি বিদ্রোহের রূপ নিল। দলের অন্দরেই কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং তৃণমূলের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেই ‘দুর্বল’ প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতা ও আরএসএসের একটি অংশের অভিযোগ, ঘোষিত প্রার্থীদের অধিকাংশকেই সাধারণ মানুষ চেনেন না। অভিযোগের তির সরাসরি সুনীল বনসল ও শমীক ভট্টাচার্যের দিকে। তাঁদের দাবি, এই দুই নেতা একতরফাভাবে এমন প্রার্থী ঠিক করেছেন যাতে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত হয়। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় শমীক ভট্টাচার্য ও রাহুল সিনহাকে কটাক্ষ করে বলা হচ্ছে, “যাঁদের নিজেদের হারের রেকর্ড রয়েছে, তাঁরাই এখন নিজেদের বন্ধুদের সুবিধা পাইয়ে দিতে অযোগ্য প্রার্থীদের ময়দানে নামিয়েছেন।”

জল ঘোলা হয়েছে পানিহাটি কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও। সূত্রের খবর, আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করার বিষয়ে একেবারেই মত ছিল না শমীক ভট্টাচার্যের। কিন্তু বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জোরাজুরিতে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সভাপতি ও বিরোধী দলনেতার মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুধু প্রার্থী পদ নয়, প্রচারের অর্থ নিয়েও উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। কর্মীদের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে প্রচারের জন্য যে অর্থ সাহায্য পাঠানো হয়েছে, তার ছিটেফোঁটাও পৌঁছাচ্ছে না নিচুতলা পর্যন্ত। পরাজয় নিশ্চিত জেনে প্রার্থীরা বা উচ্চপর্যায়ের নেতারাই সেই টাকা ‘হাওয়া’ করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে।

বিজেপির এই কোন্দল নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, আত্মবিশ্বাস নেই বলেই শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছেন। কুণালবাবুর কথায়, “শমীক ভট্টাচার্য ও সুকান্ত মজুমদাররা মিলে গ্যাস খাইয়ে শুভেন্দুকে বলি হতে পাঠিয়েছেন। ওঁরা চান শুভেন্দু হারুক। শুভেন্দু দলটাকে হাইজ্যাক করতে চেয়েছিলেন, এবার শমীকরাই তাঁকে চিরতরে গঙ্গার জলে ফেলতে চলেছেন।” তৃণমূলের দাবি, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তত ৫০ হাজার ভোটে জিতবেন এবং নন্দীগ্রামেও তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। ভোটের আগে এই অন্তর্কলহ বঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়াকে আরও কঠিন করে তুলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *