আজকের দিনেবাংলার আয়না

“টিকিট পাইনি বলে বিরোধিতা নয়,” নারায়ণগড়ের সভা থেকে বিক্ষুব্ধদের কড়া বার্তা মমতার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মেদিনীপুর: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে দানা বেঁধেছিল অসন্তোষ। টিকিট না পেয়ে সরব হয়েছিলেন একাধিক বিদায়ী বিধায়ক ও হেভিওয়েট নেতা। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের নির্বাচনী সভা থেকে সেই সমস্ত বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের কার্যত শেষ সতর্কবার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, “টিকিট পাইনি বলে এটা নয় যে বিরোধিতা করব।”

এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাদ পড়েছেন ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ক এবং ৪ জন বিদায়ী মন্ত্রী। এই রদবদলের জেরে দলের একাংশের মধ্যে যে অভিমান ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন। “যাঁরা মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকবেন, তাঁরাই টিকিট পাবেন। একবার টিকিট পেয়েছি মানেই যে পরের বার পাব, এমন কোনো কথা নেই।”  নেত্রীর দাবি, কাউকে টিকিট না দেওয়ার অর্থ তাঁকে অসম্মান করা নয়। বরং দলের লক্ষ্য হওয়া উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করা। নারায়ণগড়ের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সুর চড়িয়েছেন, তা অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে নওদার সভা থেকে অভিষেকও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, দলকে চাপে রাখতে বিশৃঙ্খলা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন মমতাও বুঝিয়ে দিলেন, টিকিট না পেয়ে দলের বিরোধিতা করা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখে না। “সম্মানের সঙ্গে সকলকে বলছি, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। টিকিট না পেয়ে যারা বিরোধিতা করছেন, মানুষ তাঁদের পছন্দ করে না।” — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কাঁটা উপড়ে ফেলতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। একদিকে যেমন বিক্ষুব্ধদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে দলের অনুশাসন বজায় রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। ভোটের ময়দানে নামার আগে দলের অন্দরের ফাটল মেরামত করাই এখন কালীঘাটের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *