আজকের দিনেবাংলার আয়না

ভিডিও কলে বাবা-মাকে সাক্ষী রেখে আত্মঘাতী যুবক, হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী কালিয়াচক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,মালদহ: অভাবের সংসারে লড়াই ছিল নিত্যসঙ্গী। বাবার সঙ্গে বিড়ি বেঁধে চলত জীবনযুদ্ধ। কিন্তু সেই লড়াইয়ের ময়দান থেকে এভাবেই যে বিদায় নেবেন ২০ বছরের যুবক আব্দুল জব্বর, তা কল্পনাও করতে পারেনি তাঁর পরিবার। রবিবার রাতে মালদহের কালিয়াচকের শ্রীরামপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এক নারকীয় ঘটনা এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি ফাঁকা মাঠে যান আব্দুল। সেখান থেকেই বাবা-মাকে ভিডিও কল করেন তিনি। ফোনের ওপারে যখন বাবা-মা ছেলের মুখ দেখছেন, ঠিক তখনই চোখের নিমেষে নিজের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রিগার টিপে দেন আব্দুল। মোবাইলের স্ক্রিনে ছেলের এমন মর্মান্তিক পরিণতি দেখে দিশেহারা হয়ে মাঠের দিকে ছোটেন পরিজনরা। সেখানে গিয়ে তাঁরা আব্দুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা আব্দুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কালিয়াচক থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় দানা বাঁধছে একাধিক প্রশ্ন।  বিড়ি শ্রমিকের কাজ করা এক যুবকের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র এল কোথা থেকে? শুধুমাত্র অভাব নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও মানসিক যন্ত্রণা বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঘটনা? ভিডিও কল করে বাবা-মাকে দেখিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত কি কোনও চরম অভিমানের বহিঃপ্রকাশ? পুলিশ জানিয়েছে, যুবকের মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় গোটা শ্রীরামপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *