এনআরএস হাসপাতালের সিসিউ-তে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল ছাদের চাঙড়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তপ্ত নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের অ্যানাস্থেশিওলজি বিভাগের অন্তর্গত সিসিউ-তে ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অল্পের জন্য বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
অল্পের জন্য রক্ষা, তড়িঘড়ি রোগী স্থানান্তর হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে যখন সিসিউ-তে স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবা চলছিল, তখনই হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ে। চাঙড় পড়ার অভিঘাতে ফেটে যায় ওয়ার্ডের মেঝেটিও। সেই সময় ওই ইউনিটে ১২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। কোনও হতাহতের খবর না থাকলেও, আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ওই ১২ জন রোগীকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়। আপাতত ওই ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে।
সুপারকে চিঠি বিভাগীয় প্রধানের ঘটনার পরপরই অ্যানাস্থেশিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাসপাতালের সুপারকে জরুরি চিঠি দিয়েছেন। ওয়ার্ডটি বর্তমানে রোগীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অবিলম্বে পূর্ত দপ্তরকে দিয়ে ওয়ার্ডটি পরিদর্শন ও মেরামতের দাবি জানানো হয়েছে। হাসপাতাল সুপার ইতিমধ্যেই পূর্ত দপ্তরকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং মেরামতের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আরজি করের স্মৃতি উসকে ফিরছে আতঙ্ক কয়েকদিন আগেই আরজি কর হাসপাতালে মর্মান্তিক লিফট দুর্ঘটনায় দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছে। লিফটে আটকে যাওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেওয়াল ও দরজার মাঝে পিষে প্রাণ হারান তিনি। সেই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। আরজি করের সেই ক্ষত দগদগে থাকাকালীন এনআরএস-এর এই ঘটনা সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
তদন্ত শুরু হয়েছে কি না বা কত দ্রুত সিসিউ-টি পুনরায় সচল হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা।
