রাহুলের মৃত্যুর তদন্তের দাবিতে পথে নামছে নাগরিক সমাজ, প্রসেনজিতের বাড়িতে জরুরি বৈঠক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: গত ২৯ মার্চ রবিবাসরীয় বিকেলে সমুদ্রের নোনা জল কেড়ে নিয়েছে প্রতিভাবান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণ। কিন্তু সেই মৃত্যুকে নিছক ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে মেনে নিতে পারছে না রাহুলের পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা। অভিনেতার মৃত্যু ঘিরে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে আগামী ৪ এপ্রিল (শনিবার) ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ স্লোগান তুলে পথে নামছে নাগরিক সমাজ।
প্রসেনজিতের বাড়িতে জরুরি বৈঠক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টলিউডের ‘অভিভাবক’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাড়িতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। এ ছাড়াও হাজির ছিলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক অরিন্দম শীল, প্রযোজক নিসপাস সিং রানে ও ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। রাহুলের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে আইনি পথে কোন কোন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ‘ভোলে বাবা পার কা’-এর শ্যুটিং চলাকালীন এই ঘটনা টলিপাড়ার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। শ্যুটিং সেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন অনেকেই। ঘটনার দিন উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের বয়ানেও একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রের ভূমিকা ও তাঁর বয়ান নিয়েও ধন্দ রয়েছে রাহুলের ঘনিষ্ঠ মহলে।
তদন্তের স্বার্থে পদত্যাগের ইচ্ছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় যখন টলিউড উত্তপ্ত, তখনই এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ ছাড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যে সিরিয়ালের শ্যুটিংয়ে এই দুর্ঘটনা, তার সঙ্গে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় যুক্ত থাকায় কোনওভাবেই যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত না হয়, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন।
নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ মিছিল আগামী শনিবার বিকেল ৪টের সময় টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে নাগরিক সমাজের এই মিছিল শুরু হবে। ইম্পার সদস্য ছাড়াও কবি শ্রীজাত, পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এই মিছিলে শামিল হবেন। তবে এই কর্মসূচিতে আর্টিস্ট ফোরামের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে টলিপাড়ার অন্দরে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
রাহুলের মতো একজন সৃষ্টিশীল মানুষের অকাল প্রয়াণ কি শুধু নিরাপত্তাহীনতার বলি, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কিছু? ৪ এপ্রিলের মহামিছিল থেকে এই প্রশ্নই আরও জোরালোভাবে তুলতে চলেছেন টলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
