আজকের দিনেভারত

স্ত্রীকে খুনের পর দেহ রাখা হলো সিমেন্ট-ভর্তি কাঠের বাক্সে! ‘নিখোঁজ’ ডায়েরি করেও রক্ষা পেল না স্বামী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, সুরাট: স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে দেহ সিমেন্ট ভর্তি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের সুরাটে। খুনের পর পুলিশের চোখে ধুলো দিতে স্ত্রীর নামে নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন অভিযুক্ত বিশাল সালভি (৪০)। কিন্তু দম্পতির নাবালক ছেলের তৎপরতা এবং একটি চিরকূটের সূত্র ধরে প্রকাশ্যে এলো এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড।
​রহস্যের সূত্রপাত ও নিখোঁজ ডায়েরি
​মৃতার নাম শিলপা সালভি (৩৯), পেশায় তিনি একজন ডায়েটিশিয়ান ছিলেন। দিন চারেক আগে বিশাল সালভি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সূত্র খুঁজে পায়নি।
ছেলের উদ্ধার করা চিরকূট ও মোড় পরিবর্তন
​তদন্তের মোড় ঘুরে যায় যখন দম্পতির নাবালক ছেলে বাড়ির ভেতর থেকে একটি হাতে লেখা নোট খুঁজে পায় এবং তা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ মনে করছে, নোটটি বিশাল সালভি নিজেই লিখেছিলেন। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি একটি ‘গুরুত ভুল’ করে ফেলেছেন এবং তাঁর স্ত্রী শিলপা আর বেঁচে নেই। এই চিরকূট পাওয়ার পরেই পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে পলাতক বিশালের সন্ধান শুরু করে।
পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার
​তদন্ত চলাকালীন পুলিশ সালাবতপুরা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সন্ধান পায়। সেই বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই তীব্র পচা গন্ধ পান তদন্তকারীরা। তল্লাশি চালাতেই দেখা যায়, একটি কাঠের বাক্সের ভেতর মৃতদেহ রেখে তার ওপর সিমেন্ট ঢেলে দেওয়া হয়েছে। সিমেন্টের স্তর সরিয়ে শিলপার পচাগলা দেহ উদ্ধার করা হয়।
খুনের কারণ: সন্দেহ ও পরকীয়া
​পুলিশ আধিকারিক কানন দেশাই জানান: ​দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ​বিশাল সন্দেহ করতেন যে তাঁর স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত।
​প্রাথমিক অনুমান, নিখোঁজ ডায়েরি করার অন্তত ৪-৫ দিন আগেই শিলপাকে খুন করা হয়েছিল। বর্তমানে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। অভিযুক্ত স্বামী বিশাল সালভি বর্তমানে পলাতক, তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *