আজকের দিনেতিলোত্তমা

পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর ‘গোপন বৈঠক’! হাই কোর্টে তৃণমূল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ভোটমুখী বাংলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় আইনি লড়াইয়ে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষকের ‘গোপন বৈঠক’-এর অভিযোগে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলো শাসকদল। রবিবার মগরাহাটের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এই পদক্ষেপ নিল জোড়াফুল শিবির।
​অভিযোগের সূত্রপাত কী?
​ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পান্নালাল হালদারের দাবি, গত ২০ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে স্থানীয় একটি সরকারি লজে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার ও বেশ কয়েকজন গেরুয়া নেতা। তৃণমূলের দাবি, এই বৈঠকের ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
​‘আমি সর্বত্র বিরাজমান’, মগরাহাট থেকে তোপ অভিষেকের
​রবিবার মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রচারসভা থেকে এই ইস্যুতে সুর চড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন:
​”ভেবেছিল চুপিসারে বৈঠক সেরে ফেলবে, কেউ টের পাবে না। কিন্তু আমি সর্বত্র বিরাজমান। আমি মুখোশ খুলে দিয়েছি।”
​অভিষেকের অভিযোগ, এই ঘটনার তদন্ত শুরু করতেই ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও এবং একাধিক থানার ওসি-কে বদলি করে দিয়েছে কমিশন। তাঁর কথায়, “চোরেরা চুরি করে আর পুলিশ ধরলে ব্যবস্থা নেওয়া হয় পুলিশের বিরুদ্ধেই। এটা অদ্ভুত পরিস্থিতি।”
হাই কোর্টের দ্বারস্থ শাসকদল
​তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের কথা শুনে কমিশন বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা সাজাচ্ছে, অথচ লজে গোপন বৈঠকের মতো গুরুতর অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতেই সোমবার উচ্চ আদালতের কড়া নাড়ল তৃণমূল।
​ডায়মন্ড হারবারের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে এই ‘গোপন বৈঠক’ বিতর্ক এবং পরবর্তী পুলিশি রদবদল নিয়ে আদালত এখন কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের লড়াই যে এখন কেবল রাজপথে নয়, আদালতেও সমানতালে চলবে, তা এই ঘটনায় আরও স্পষ্ট হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *