আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

টাকা-সোনা নিয়ে চাকরি বিক্রি ! মদন মিত্রের ৩ বাড়িতে ইডি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- এবার বড় পদক্ষেপ ইডির। তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের কামারহাটি, জোকা, ভবানীপুরের তিনটি ঠিকানায় একযোগে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মদন মিত্রের ঠিকানা সহ মোট ৮টি জায়গায় চলছে তল্লাশি অভিযান।

ইডি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১২৫ জনকে ঘুষের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন মদন মিত্র। কামারহাটি পুরসভা ও টিটাগড় পুরসভায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শোনা যাচ্ছে, শুধু টাকা নয়, সোনাও ঘুষ হিসেবে নিতেন তৃণমূল বিধায়ক। দালালদের মাধ্যমে চলত গোটা নিয়োগ-প্রক্রিয়া বলে ইডি সূত্রে দাবি।

স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়েই সামনে এসেছিল পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ। ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত প্রোমোটার অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় একাধিক পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত তালিকা।

ইডি সূত্রে দাবি, প্রোমোটার অয়ন শীলের সংস্থা ABS ইনফোজোনের অফিসের কম্পিউটারের ফোল্ডারে যে নথি মিলেছিল, সেখানেই ছিল একাধিক প্রভাবশালীর নাম। উল্লেখ ছিল চাকরি বিক্রির টাকার অঙ্কও। জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের অফিস থেকে অন্তত ৬০টি পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত নথি ও চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা উদ্ধার হয়। অফিসের ড্রয়ার থেকে মিলেছিল ৪০০টি OMR শিট, যার মধ্যে অনেকগুলিই ফাঁকা ছিল।

সেই তালিকাতেই সামনে আসে কামারহাটি পুরসভার নাম। সেই সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির স্ক্যানারে আসেন মদন মিত্র। এর আগে পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে মদন মিত্রের ভবানীপুরের 32 B ধীরেন্দ্র ঘোষ রোডের ঠিকানায় পৌঁছেছিল সিবিআই। এবার সেই ঠিকানাতেই হানা দিল ইডি।

শিক্ষক নিয়োগের পর এবার পুরসভা— দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে তা স্পষ্ট করছে ইডির তদন্ত। অয়ন শীলের কম্পিউটার থেকে উদ্ধার হওয়া নথিই খুলে দিচ্ছে একের পর এক রাঘব বোয়ালের নাম। মদন মিত্রের মতো হেভিওয়েট নেতার ৩ ঠিকানায় একসঙ্গে হানা শুধু তদন্তের গতি বাড়াল না, শাসকদলের অস্বস্তিও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

১২৫টা চাকরি, টাকা-সোনার কারবার— অভিযোগের পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে মদন মিত্র এবার কী জবাব দেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *