তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকাঃ মুখ্যমন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: তারাতলার ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনায় শোকস্তব্ধ রাজ্য। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বেলা ১১টা নাগাদ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারি সহায়তার বড় ঘোষণা করেন।
আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে।”
উদ্ধারকার্য ও প্রশাসনিক তৎপরতা
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোরকদমে চলছে ‘অপারেশন’। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবার দুপুরে দুর্ঘটনার তিরিশ মিনিটের মধ্যেই কলকাতা পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি নিজে মনিটর করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উদ্ধারকাজে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তাই পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে সামাল দেওয়ার পর বিকেলে আমি দুর্ঘটনাস্থলে যাই এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলি।” পাশাপাশি, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি
বিধানসভায় দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, বুধবার দুপুর থেকে বুধবার রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে এ পর্যন্ত ২৯ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তারাতলার দুর্ঘটনাস্থল এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে—সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে বিশালাকার লোহার বিম আর সিমেন্টের চাঙড়। বৃহস্পতিবার সকালেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
