আজকের দিনেবাংলার আয়না

​ বীরভূমে ২২ জনকে আবাসের টাকা ফেরতের নোটিস জেলা প্রশাসনের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বীরভূম: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসল জেলা প্রশাসন। বীরভূমে আবাস যোজনা প্রকল্পে অনিয়ম রুখতে এবং অযোগ্যদের থেকে টাকা উদ্ধার করতে জোর কদমে প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। ইতিমধ্যে জেলার নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের ভদ্রপুর ১ পঞ্চায়েতের মোস্তফাডাঙ্গা গ্রামে ২২ জন উপভোক্তাকে আবাস যোজনার টাকা ফেরত দেওয়ার নোটিস জারি করা হয়েছে।

​অভিযোগ, ভুয়ো তথ্য দিয়ে এবং সত্য গোপন করে ওই ২২ জন আবাস যোজনা প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ টাকা তুলে নিয়েছেন। ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​পাকা বাড়ি থাকলেও মেলেনি রেহাই, কাঠগড়ায় ‘প্রভাবশালী’ উপভোক্তারা
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাদের নামে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাদের অধিকাংশেরই নিজস্ব পাকা বাড়ি রয়েছে। এমনকি কেউ কেউ আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা তুলে বিলাসবহুল কংক্রিটের বাড়ি তৈরিও শুরু করে দিয়েছেন। যোগ্য উপভোক্তারা বঞ্চিত হলেও, অযোগ্যরা কীভাবে সরকারি টাকা পেলেন, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রামের মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বঞ্চিত গ্রামবাসী বলেন: ​”যারা প্রকৃত যোগ্য, মাথা গোঁজার ছাদটুকু নেই, তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আর যাদের বিশাল পাকা বাড়ি রয়েছে, তারা জালিয়াতি করে টাকা তুলে নিল।”

টাকা ফেরতের নোটিসে মাথায় বাজ উপভোক্তাদের
​জেলা প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে এলাকায়। তবে নোটিস পেলেও অনেকেই টাকা ফেরত দিতে নারাজ। তাদের নানা অজুহাত এখন সামনে আসছে। কেউ বলছেন, পাকা বাড়িটি তাদের ছেলেদের বা কাকাদের, তারা আলাদা থাকেন।
​টাকা প্রাপক সাইদুল ইসলামের দাবি, “পাকা বাড়িটি কাকাদের। আমি টাকা পেয়ে বাড়ি করতে শুরু করেছি। এখন হঠাৎ টাকা ফেরত দিতে বলছে, আমি কীভাবে দেব?”
​অন্য এক উপভোক্তা শেখ আনিকুল ইসলাম বলেন, “আমি ছেলের বাড়িতে থাকি। আমার নামে সরকারি বাড়ি এসেছিল। সেই টাকা দিয়ে কাজ শুরু করার পর এখন বলা হচ্ছে টাকা ফেরত না দিলে জেল হবে। চরম সমস্যায় পড়েছি।”
​কড়া হুঁশিয়ারি প্রশাসনের
​এই বিষয়ে নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের বিডিও প্রিয়াঙ্কা সাধুখাঁ জানান, সরকারের নির্দেশিকা মেনে এবং সঠিক তদন্তের পরেই এই ২২ জনকে টাকা ফেরতের নোটিস পাঠানো হয়েছে।
​পাশাপাশি, রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন: তথ্য গোপনকারীদের ছাড় নয়: যারা সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে, তথ্য গোপন করে আবাস যোজনার টাকা নিয়েছেন, তাদের টাকা ফেরত দিতেই হবে।
​কঠোর পদক্ষেপ: সাত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমস্ত রকম সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে চিরতরে বঞ্চিত হবেন।
​আইনানুগ ব্যবস্থা: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা না পড়লে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
​প্রশাসনের এই মারমুখী মেজাজে বীরভূমের অন্যান্য ব্লকেও অযোগ্য উপভোক্তাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *