সুস্থ থাকুনআজকের দিনেবিশ্ব

রুপালি পর্দায় সারবে রোগ! চিকিৎসায় নতুন ম্যাজিক এই দেশের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া  বাংলা, নিউজ ডেস্ক: হাসপাতাল বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্যাঁতস্যাঁতে বা এসি-র ঠান্ডা পরিবেশ, ওষুধের কড়া গন্ধ, নানারকম যন্ত্রপাতির আওয়াজ আর এক রাশ দুশ্চিন্তা। কিন্তু চিকিৎসার এই চেনা এবং চাপপূর্ণ পরিবেশকে এক লহমায় বদলে দিতে পারে সিনেমা! শুনতে অবাক লাগলেও, বিশ্বে এমন একটি দেশ রয়েছে যেখানে রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে হাসপাতালের ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ সিনেমা থিয়েটার।

রোগীদের সাময়িকভাবে রোগযন্ত্রণার পরিবেশ থেকে দূরে সরিয়ে একটু স্বাভাবিক জীবনের ছোঁয়া দেওয়া এবং তাঁদের মানসিক শক্তি জোগানোর লক্ষ্যেই এই চমৎকার উদ্যোগ। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন দেশে এবং কীভাবে চলছে অভিনব এই চিকিৎসা পদ্ধতি।

 ব্রিটেনের অনন্য উদ্যোগ: ‘মেডিসিনেমা’

ব্রিটেনের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের মানসিক অবসাদ ও চাপ দূর করতে হাসপাতালের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে বিশেষ থিয়েটার, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেডিসিনেমা’। এখানে চিকিৎসাধীন শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা তাঁদের শারীরিক কষ্ট ও হাসপাতালের একঘেয়েমি ভুলে নতুন নতুন চলচ্চিত্র উপভোগ করার সুযোগ পান। বর্তমানে পুরো ব্রিটেন জুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে এই ধরনের নয়টি ‘মেডিসিনেমা’ থিয়েটার সাফল্যের সাথে কাজ করছে।

 কীভাবে পরিচালিত হয় হাসপাতালের এই সিনেমা হল?

এই থিয়েটারগুলি সাধারণ হলের মতো হলেও এর ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা। সাইমন হিকসন নামের এক ব্যক্তি এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেন।

  • রোগী নির্বাচন: প্রতিদিন সকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে ডাক্তার ও নার্সদের সাথে কথা বলে ঠিক করা হয় যে সেদিন কোন কোন রোগী সিনেমা দেখার মতো শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন।

  • বিশেষ আসন ব্যবস্থা: সিনেমা শুরু হওয়ার আগে নার্সরাই রোগীদের ওয়ার্ড থেকে থিয়েটারে নিয়ে আসেন। হুইলচেয়ার বা সাধারণ আসন ছাড়াও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য রয়েছে ৪টি বিশেষ শয্যাবিশিষ্ট (Bed-bound) চেয়ার এবং ৩টি রিক্লাইনার চেয়ার, যাতে রোগীরা শুয়ে শুয়েও সিনেমা দেখতে পারেন।

  • থাকে জরুরি চিকিৎসা দল: সব বয়সের ও সব ধরনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই এখানে আসেন। হলের ভেতরেই সর্বদা উপস্থিত থাকেন নার্স ও চিকিৎসাকর্মীরা। সিনেমা চলাকালীন কোনও রোগীর হঠাৎ শারীরিক সমস্যা বা হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা হলের ভেতরেই মজুত থাকে।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই পথচলা?

হাসপাতালের ভেতরে সিনেমা হল তৈরির এই অভিনব ভাবনার নেপথ্যে রয়েছেন ক্রিস্টিন হিল নামের এক নারী। আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে সেন্ট টমাস হাসপাতালের বাগানে কিছু শিশুকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে তাঁর মাথায় এই আইডিয়া আসে। তিনি ভাবেন, সিনেমার জাদুকরী দুনিয়া রোগীদের সাময়িক আনন্দ দিতে পারে।

শুরুতে নানা বাধা এবং বিরোধিতার সম্মুখীন হলেও তিনি দমে যাননি। তহবিল সংগ্রহ করে শেষমেশ হাসপাতালের একটি লেকচার থিয়েটারকেই সিনেমা হলে রূপান্তর করেন তিনি। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ‘মেডিসিনেমা’ চালু হয় এবং সেখানে দেখানো প্রথম চলচ্চিত্রটি ছিল ‘ইনস্পেক্টর গ্যাজেট’। আজ তিন দশক ধরে এই উদ্যোগ হাজার হাজার রোগীকে সুস্থ হতে মানসিক অক্সিজেন জুগিয়ে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *