দক্ষিণেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পানিহাটিঃ ভোট পরবর্তী হিংসা ও লটারিজয়ীর কোটি টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। দক্ষিণেশ্বর থেকে সোমবার ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করল খড়দহ থানার পুলিশ।
ভোটের হারের ধাক্কা কাটার আগেই বড়সড় আইনি বিপাকে পানিহাটির হেভিওয়েট রাজনৈতিক পরিবার। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। পুরনো মামলায় অবশেষে পুলিশের জালে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তথা সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ। সোমবার ভোরে দক্ষিণেশ্বর এলাকা থেকে খড়দহ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
কী কী অভিযোগ রয়েছে তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে?
পুলিশ সূত্রে খবর, পানিহাটি এলাকায় ‘পুচিদা’ নামে পরিচিত তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এক গাড়িচালক লটারিতে কোটি টাকা জেতার পর, তাঁর কাছ থেকে সেই অর্থ বলপূর্বক কেড়ে নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ ওঠে নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। এই মামলার তদন্তেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের খুঁজছিল পুলিশ।
বাবার দাপট বনাম ভুরি ভুরি অভিযোগ:
পানিহাটি ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের ডাকসাইটে নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান তীর্থঙ্করের। নির্মলবাবুর আমলে সোদপুরের অমরাবতীর মাঠ থেকে শুরু করে একাধিক জমি দখলের মতো হাজারো অভিযোগ জমা পড়লেও, আগে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি বলেই রাজনৈতিক মহলের দাবি। ছাব্বিশের নির্বাচনে নির্মলবাবু নিজে দাঁড়াননি, টিকিট পেয়েছিলেন ছেলে তীর্থঙ্কর। কিন্তু আর জি করের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের কাছে পরাজিত হন তিনি। আর এই হারের পর থেকেই পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে পুরনো সমস্ত মামলার ফাইল নতুন করে খোলে পুলিশ।
দলবদলের জল্পনা ও ঋতব্রতর ‘না’:
গ্রেপ্তারি এড়াতে দুজনেই গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও, শনিবার তপসিয়ায় ‘আসল’ তৃণমূলের বৈঠকে নির্মল ঘোষের উপস্থিতি ঘিরে তীব্র জল্পনা ছড়ায়। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়, মামলা থেকে বাঁচতেই কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন প্রাক্তন বিধায়ক? তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে রবিবার ঋতব্রতবাবু নিজেই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “রিজার্ভেশন আছে, ওঁকে আমরা নেব না।”
দলীয় রক্ষাকবচ ও দলবদলের সব রাস্তাই যখন বন্ধ, ঠিক তার পরের দিন ভোরেই পুলিশের এই বড়সড় অ্যাকশন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। খড়দহ থানার পুলিশ তীর্থঙ্করকে জেরা করে এই চক্রের বাকিদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
