আজকের দিনেতিলোত্তমা

২১ জুলাইয়ের আগে ধর্মতলায় ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা কেন?হাই কোর্টে ‘কালীঘাট তৃণমূল’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ একুশে জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশের ঠিক আগেই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে জমায়েতের ওপর পুলিশের ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো রাজ্য রাজনীতিতে। কলকাতা পুলিশের এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলো মমতাপন্থী অর্থাৎ ‘কালীঘাট তৃণমূল’। আজ, সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। আগামী বুধবার এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

পুলিশের নির্দেশিকা ‘অধিকারের পরিপন্থী’: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা পুলিশের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, গত ২ জুলাই থেকে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’র ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা অনুযায়ী চার বা তার বেশি জনের জমায়েত নিষিদ্ধ) জারি করা হয়েছে। আর এই সময়সীমার মধ্যেই পড়ছে ২১ জুলাই।

এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধেই হাই কোর্টে আবেদন জানান কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। আদালতে তাঁর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে অপর সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে ‘অধিকারের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন। কেন টানা ৬০ দিন ধরে ওই চত্বরে এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। এরপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়েরের গ্রিন সিগন্যাল দেন।

ছাব্বিশের নির্বাচনের পর দু’ভাগে তৃণমূল, ভেন্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সমীকরণ বদলে গিয়েছে। দল বর্তমানে ‘ঋতব্রত’ ও ‘কালীঘাট’—এই দুই শিবিরে বিভক্ত। গত বছর পর্যন্ত ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই মহাসমারোহে ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ সভা পালিত হয়ে আসছিল। এবারও সেই চেনা জায়গাতেই সভার অনুমতি চেয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু পুলিশের তরফে জানানো হয়, এবার ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের কোনো আয়োজন করা যাবে না।

অন্য এক শিবিরের ঋতব্রতপন্থীরাও ধর্মতলায় সভার অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। এরপর বিকল্প ভেন্যুর খোঁজে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, ঋতব্রতপন্থীরা ধর্মতলার বিকল্প হিসেবে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করার অনুমতি চেয়েছেন এবং তা মঞ্জুরও হয়েছে। কিন্তু মমতাপন্থী বা কালীঘাট তৃণমূল শেষপর্যন্ত ২১ জুলাই কোথায় সভা করবে, তা নিয়ে এখনও তীব্র ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।

বুধবারই নজর আদালতের রায়ের দিকে

এরই মধ্যে ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে পুলিশের এই টানা ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না কালীঘাট শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সমাবেশকে ধর্মতলা থেকে সরানোর জন্যই কি প্রশাসনের এই কৌশল? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো নিরাপত্তার কারণ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী বুধবার, যখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার জল গড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *