আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

“নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরে ফুটবে পদ্ম”-মোদি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,হলদিয়া: বিধানসভা নির্বাচনের পারদ তুঙ্গে তুলে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর জয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার হলদিয়ার জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে প্রচার করতে গিয়ে মোদি দাবি করেন, পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম যে পরিবর্তনের সূচনা করেছিল, এবার ভবানীপুর সেই ধারাই বজায় রাখবে।

হলদিয়ার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে বিজেপি জিতেছে। এবার ভবানীপুরেও জিতবে। বাংলার মানুষের উৎসাহই বলে দিচ্ছে এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসছে।” উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছে (বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন)। তবে সেই জয়কেই ঢাল করে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে থাবা বসাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও লড়াই করছেন। ইতিমধেই তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যদিও তৃণমূল এই নিয়ে তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। জোড়াফুল শিবিরের চ্যালেঞ্জ ছিল, ক্ষমতা থাকলে শুভেন্দু যেন শুধুমাত্র ভবানীপুর থেকেই লড়াই করেন। ‘সেফ প্যাসেজ’ হিসেবে দু’টি কেন্দ্র বেছে নেওয়া নিয়ে শুভেন্দুকে বিঁধছে শাসকদল।

অন্যদিকে, নিজের গড় রক্ষায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তৃণমূল সুপ্রিমো। গতকালই বিশাল জনজোয়ারের মাঝে কলকাতায় পায়ে হেঁটে মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হয়ে ওই এলাকায় ভোট সামলাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েট নেতারা। মনোনয়ন শেষে আমজনতার উদ্দেশে মমতা বলেন: “আমি ভবানীপুরেই আছি, এখানেই থাকি। ভবানীপুরের পাশাপাশি রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রেই তৃণমূল প্রার্থীরা জিতবে। আমরাই আবার সরকার গড়ব।”

ভবানীপুর এবার বঙ্গ রাজনীতির সবথেকে বড় ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। একদিকে মোদি-শাহের দাপট ও শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে ঘরের মেয়ে মমতার আবেগ। হলদিয়া থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই হুঙ্কার ভবানীপুরের ভোট-যুদ্ধকে এক অন্য মাত্রা দিল। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের মানুষ ঘরের মেয়েকেই বেছে নেন নাকি মোদির ‘গ্যারান্টি’তে সিলমোহর দেন, তা জানা যাবে ফলাফলের দিন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *