যুবককে গলা কেটে খুন ব্যবসায়ীর, গণপিটুনিতে মৃত্যু অভিযুক্ত হত্যাকারীরও
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বিহারঃ সাতসকালে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল বিহার। সামান্য বচসার জেরে এক যুবকের মাথা কেটে খুনের অভিযোগ উঠল এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জনরোষের মুখে পড়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু হলো অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরও। শুক্রবার সকালে বিহারের অরারিয়া জেলার ফরবেশগঞ্জের সুভাষচক বাজারে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম আলি হুসেন (৪২)। তিনি পেশায় এক পিকআপ ভ্যান চালক ছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ সুভাষচক বাজার এলাকায় স্থানীয় এক ছাতু ব্যবসায়ী রবি চৌহানের (৩০) সঙ্গে কোনও একটি বিষয় নিয়ে রসিকতা করেছিলেন আলি হুসেন। সেই সামান্য রসিকতা থেকেই বচসা চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ, রাগের মাথায় রবি তার পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে আলির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ব্যস্ত রাস্তার মাঝেই তাঁর মাথা কেটে ধড় থেকে আলাদা করে দেয়। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘক্ষণ আলির দেহ রাস্তার ওপর পড়ে থাকে। দৃশ্যটি দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। ঘটনার পর রবি নিকটস্থ একটি বাড়িতে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। কিন্তু উত্তেজিত জনতা তাকে খুঁজে বের করে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে আসে। এরপর লাঠি, বাঁশ ও ইট দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা শুরু হয়। পুলিশের চোখের সামনেই গণপিটুনির জেরে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত রবি চৌহানের।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র কুমার এবং বিশাল পুলিশবাহিনী। সাতসকালে পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় ফরবেশগঞ্জ বাজার এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে কোনও সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠীগত উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ পিকেট। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সামান্য একটি রসিকতাকে কেন্দ্র করে কেন রবি এত বড় অপরাধ ঘটালো, নাকি এর পেছনে কোনও পুরনো শত্রুতা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
