এবার জেলাশাসকের দফতর বা অনলাইনে ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ যাওয়া নিয়ে যাঁদের অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা এখন থেকে সরাসরি জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা দুটি উপায়ে তাঁদের দাবি বা আপত্তি জানাতে পারবেন।
-
অনলাইন পদ্ধতি: নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে বিচারাধীন আবেদনকারীদের জন্য একটি আলাদা বিভাগ খোলা হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করা যাবে।
-
অফলাইন পদ্ধতি: সাধারণ কাগজে আবেদন লিখে জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের দফতরে জমা দেওয়া যাবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র বা এপিক (EPIC) নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
এবারের ভোটার তালিকায় ব্যাপক রদবদল চোখে পড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যার মধ্যে বড় অংশের নিষ্পত্তি হলেও অনেকের নাম এখনও বাদ রয়ে গিয়েছে। এই জটিলতা কাটাতে ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
এই ট্রাইব্যুনালে থাকছেন:
-
কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম
-
প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু
-
প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ
-
প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ।
কমিশনের কড়া নির্দেশ: জমা পড়া সমস্ত নথি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে এবং মূল আবেদনপত্রগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গচ্ছিত রাখতে হবে।
২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে সমস্ত আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের। যদি কোনো ভোটারের নাম অতিরিক্ত তালিকায় না তোলা হয় বা অন্যায়ভাবে কেটে দেওয়া হয়, তবে তিনি এই নবগঠিত ট্রাইব্যুনালে আপিল করে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে পারেন।
