DA-Supreme Court-WB Govt : রাজ্যকে বড় ধাক্কা, ডিএ মামলায় কর্মীদের জয়……
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় ঘোষণা করেছে, তা শুধু একটি আর্থিক নির্দেশ নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব ও সরকারি কর্মীদের অধিকার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ এজলাসে বসে একে একে রায়ের পয়েন্টগুলি তুলে ধরে জানিয়ে দেয়, মহার্ঘ ভাতা কোনও অনুগ্রহ বা সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল বিষয় নয়, এটি সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার এবং দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা ডিএ রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতেই হবে। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ রাজ্যকে এরিয়ার সহ দিতে হবে এবং এই অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে আর কোনও অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। সেই ২৫ শতাংশ ডিএ-র প্রথম কিস্তি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই রাজ্য সরকারকে পরিশোধ করতে হবে বলে নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, ডিএ একটি পরিবর্তনশীল বিষয় এবং আর্থিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এর হার সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। সেই কারণেই ভবিষ্যতে ডিএ-র পরিমাণ, সময়সীমা এবং পরিশোধের কাঠামো ঠিক করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এবং তাঁর সঙ্গে আরও দুই জন বিচারপতিকে নিয়ে এই কমিটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে এই কমিটি গঠন করতে হবে এবং আগামী ১৫ মে-র মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, কীভাবে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি বকেয়া মেটানোর রূপরেখা কী।
আদালত এদিন রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও কড়া পর্যবেক্ষণ করেছে। উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগেও কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। ২০২২ সালের ২০ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমতুল্য হারে ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় কার্যকর না করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট প্রথম থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখে এবং গত বছরের ১৬ মে রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয় ২৭ জুনে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকার সেই অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় এবং পরে অতিরিক্ত ছয় মাস সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। বৃহস্পতিবারের রায়ে সেই আবেদন আংশিকভাবে মঞ্জুর হলেও আদালত পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়, সময় চাইলেই দায় এড়ানো যাবে না এবং বকেয়া ডিএ দিতেই হবে।
বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ। অর্থাৎ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য প্রায় ৪০ শতাংশ। এই দীর্ঘ ব্যবধানই রাজ্য সরকারি কর্মীদের অসন্তোষ এবং আইনি লড়াইয়ের মূল কারণ হয়ে উঠেছিল। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি ছিল, একই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কাজ করেও রাজ্য সরকারি কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আদালত সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই ডিএ দেওয়া হয় এবং সেই কারণে এটি কর্মীদের মৌলিক আর্থিক সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত।
সূত্রের খবর, এই রায় কার্যকর করতে গেলে রাজ্য সরকারের উপর প্রায় ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকার আর্থিক বোঝা পড়তে পারে। ফলে রাজ্যের আর্থিক পরিকল্পনা এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার উপর এই রায়ের বড় প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, আর্থিক চাপের অজুহাতে কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রাখা যায় না। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল রায়ে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ডিএ সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার এবং সেই অধিকার বাস্তবায়নের দায় রাজ্য সরকারের উপরই বর্তায়।
এই রায়কে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি ও নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে কর্মচারী মহল। তাঁদের মতে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সর্বোচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে শুধু এই রাজ্য নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ডিএ সংক্রান্ত মামলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের কাছে এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে—আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আর সময়ক্ষেপণ করার সুযোগ আর নেই।
আপনি চাইলে এটাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে রাজ্য সরকারের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য ভবিষ্যতে কী হতে পারে এই তিনটা যোগ করে মেগা এক্সপ্লেইনারও বানিয়ে দিতে পারি।
