মহিলা বিল নিয়ে রণক্ষেত্র সংসদ!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: আজই সংসদের বিশেষ অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে বহুচর্চিত মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল। কিন্তু এই বিলকে কেন্দ্র করেই রাজধানীর অলিন্দে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে নারী শক্তির ক্ষমতায়নের বার্তা দিচ্ছে কেন্দ্র, অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ— এই বিলের আড়ালে ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বড়সড় চক্রান্ত করছে মোদি সরকার।
তৃণমূলের মূল আপত্তি কোথায়?
তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের পক্ষে। কিন্তু বর্তমান বিলে আসন সংরক্ষণের সঙ্গে ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন সংখ্যা বাড়ানোর যে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তাতেই আপত্তি জোড়াফুল শিবিরের। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন সাফ জানিয়েছেন, “ডিলিমিটেশনই আসল এজেন্ডা, মহিলা সংরক্ষণ কেবল অজুহাত। এটি কেন্দ্রের একটি চতুর চক্রান্ত।”
বিরোধী শিবির মনে করছে, আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা কার্যকর হলে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
ভোটের ব্যস্ততা সরিয়ে দিল্লিতে ২০ সাংসদ
রাজ্যে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার তুঙ্গে। দলের সিংহভাগ সাংসদ এখন প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও এই ‘ষড়যন্ত্র’ রুখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ অধিবেশনে তৃণমূলের পক্ষে লড়তে দিল্লিতে হাজির থাকছেন অন্তত ২০ জন সাংসদ।
বক্তা হিসেবে কারা? লোকসভায় তৃণমূলের পক্ষে দলের দীর্ঘদিনের লড়াকু মুখ তথা মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার বক্তব্য রাখতে পারেন। এছাড়াও দলের বক্তব্য পেশ করবেন প্রতিমা মণ্ডল এবং জুন মালিয়া।
উপস্থিত থাকছেন কারা? সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সৌগত রায়ের মতো প্রবীণ সাংসদরাও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে দিল্লিতে উপস্থিত রয়েছেন।
বিরোধীদের এককাট্টা লড়াই
কেবল তৃণমূল নয়, কংগ্রেসও তাদের সমস্ত সাংসদদের উপস্থিত থাকার জন্য কড়া ‘হুইপ’ জারি করেছে। ডিএমকে-র সমস্ত সাংসদও দিল্লিতে হাজির। বিরোধীদের আশঙ্কা, জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলবে।
প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা বার্তা
অন্যদিকে, বিল পেশের আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধীদের ওপর চাপ বাড়িয়ে তিনি লেখেন, “আজকের অধিবেশন নারী ক্ষমতায়নের জন্য ঐতিহাসিক। মা-বোনেদের সম্মানই দেশের সম্মান।” সংসদের ভেতরে সংখ্যাতত্ত্বের লড়াই আর বাইরে রাজনৈতিক সংঘাত— সব মিলিয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে এখন তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের আপত্তির মুখে কেন্দ্র এই বিল কীভাবে পাশ করাবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
