দৃষ্টিহীন ভোটারদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ কমিশনের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে যাতে কোনো প্রতিকূলতাই বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তার জন্য বিশেষ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে দৃষ্টিহীন ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের ভোটদানের প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
লাইন ছাড়াই ভোটাধিকার
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন বুথে সাধারণ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও দৃষ্টিহীন ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে না। তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়ে আগে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। গরম বা ভিড়ের ক্লান্তি থেকে তাঁদের রেহাই দিতেই এই মানবিক সিদ্ধান্ত।
ইভিএম-এ ব্রেল পদ্ধতি
রাজ্যের প্রতিটি বুথে ব্যবহৃত ইভিএম মেশিনগুলোতে প্রার্থীর ছবির পাশে ব্রেল ভাষায় বিশেষ সাংকেতিক কাগজ লাগানো থাকবে। যারা ব্রেল ভাষা জানেন, তাঁরা ওই অংশটি স্পর্শ করেই বুঝে নিতে পারবেন কোন চিহ্নে কোন রাজনৈতিক দল রয়েছে। ফলে অন্যের সাহায্য ছাড়াই তাঁরা গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোট দিতে পারবেন।
যাঁরা ব্রেল জানেন না, তাঁদের জন্য ‘১৪এমএ’ ধারা
ব্রেল ভাষা না জানা দৃষ্টিহীন ভোটারদের জন্য জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (১৯৫০) ১৪এমএ (14MA) ধারা প্রয়োগের ব্যবস্থা করেছে কমিশন। এই বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী:
দৃষ্টিহীন ভোটার তাঁর সঙ্গে একজন সহকারীকে নিয়ে বুথের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।
প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে আবেদন করলে, ওই সহকারী ভোটারের হয়ে বোতাম টিপে ভোট দিতে পারবেন।
এর জন্য একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে যেখানে ভোটার ও সহকারীর বিস্তারিত তথ্য থাকবে।
এই নথিতে সহকারী, প্রিসাইডিং অফিসার, বুথের তিন কর্মী এবং উপস্থিত সমস্ত পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা
পুরো বিষয়টি স্বচ্ছ রাখতে প্রিসাইডিং অফিসার তাঁর কাছে থাকা বিশেষ লাল ডায়েরিতে সব তথ্য নথিভুক্ত করবেন। এরপরই ওই দৃষ্টিহীন ব্যক্তি তাঁর সহকারীকে নিয়ে ভোটদান কক্ষে প্রবেশ করবেন এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেবেন।
কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে দৃষ্টিহীন ভোটারদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জটিলতাও দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
