প্রচারে সোহমকে “হরলিক্স” খাওয়ানোর আবদার মহিলার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পূর্ব মেদিনীপুর:- “মা, মা… একটু হরলিক্স দাও না মা, চেটে চেটে খাব”- কয়েক দশক আগে ‘ছোটবউ’ সিনেমায় খুদে সোহমের সেই সংলাপ আজও বাঙালির কানে ভাসে । সেই ছোট্ট ‘মাস্টার বিট্টু’ আজ রাজনীতির ময়দানে অন্যতম নেতা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে চণ্ডীপুরের বিদায়ী বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী এবার নদীয়ার করিমপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের অন্যতম ভরসা।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রচারের পারদ তুঙ্গে। নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন প্রার্থীরা।শেষ দফা ভোটের প্রাক্কালে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন তারকা প্রার্থীরা। তবে হরলিক্স ও সোহমের ‘কানেকশন’ যে আজীবনের, তারই হাতেগরম প্রমাণ মিলল নির্বাচনী প্রচারে।
প্রথম দফার পর এবার ‘পাখির চোখ’ রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিকে। হাতে আর মাত্র দিন চারেক। ব্যালটে ভাগ্য নির্ধারণের প্রাক্কালে শেষবেলার প্রচারে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন প্রার্থীরা। খাওয়া-নাওয়া ভুলে আমজনতার দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে জনসংযোগ সারছেন। সোহম চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। কাঠফাটা গরম উপেক্ষা করেই নদিয়ার করিমপুরের পিচে প্রচারে চালাচ্ছেন সোহম। তারকা প্রার্থীকে দেখতে অলিতে গলিতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রাও। তবে দুয়ারে দুয়ারে প্রচার করছিলেন, ঠিক তখনই এক মহিলা অনুরাগী থালা-বাটি নিয়ে তাঁর সামনে হাজির হন। সবাই অবাক হয়ে দেখলেন, থালায় রাখা হরলিক্সের দুটি পাউচ। সেই অনুরাগী কাঁচি দিয়ে পাউচ কেটে সোহমকে ছোটবেলার সেই স্মৃতি ফিরিয়ে দেওয়ার আবদার করেন। প্রিয় নায়ককে সামনে পেয়ে আবেগপ্রবণ মহিলা বলেন, “ছোটবেলা থেকে আপনার অভিনয় দেখছি, আমার এই অনুরোধ আপনাকে রাখতেই হবে।”
হঠাৎ এমন আবদারে প্রচারের মাঝে কিছুটা অপ্রস্তুত ও বিব্রত বোধ করেন সোহম! তবে বিরক্তির লেশমাত্র নেই তাঁর মধ্যে। বরং হেসেই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্য করে চটজলদি উত্তর দেন, “ছোট বাচ্চাগুলো আছে, ওদের দিন।” তারকা প্রার্থীর উত্তরে মুহূর্তে হাততালির ঝড়। ‘ছোটবউ’ সিনেমা যখন মুক্তি পায়, সোহম তখন বছর চারেকের শিশুশিল্পী। গুণগ্রাহীরা বলছেন, সিনেমায় হরলিক্স খাওয়ার সেই সংলাপ এখনও ফেরে মুখে মুখে।অভিনেতা-নেতার এই সৌজন্যবোধে মুগ্ধ হন স্থানীয় মানুষজন। বৈশাখের এই চড়া রোদে ভোটপ্রচারে বেরিয়ে যে কয়েক দশক আগের সেই ‘হরলিক্স কানেকশন’ এভাবে ফিরে আসবে, তা বোধহয় খোদ সোহমও কল্পনা করতে পারেননি।
