আজকের দিনেবাংলার আয়না

‘১০০ লাশ পুঁতে তবেই কবর হবে আমার’, হুমায়ুন কবীরের বেলাগাম হুমকিতে তোলপাড়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ  আসন্ন নির্বাচনের মুখে এবার ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর ‘বিজেপি-ডিল’ সংক্রান্ত ভিডিও ফাঁস করা থেকে শুরু করে তৃণমূলে যোগদান— একাধিক ইস্যুতে প্রাক্তন সহযোগী মইনুল হক রানাকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ দায়ের করেছে জোড়াফুল শিবির।
​খুনের হুমকি ও ‘১০০ লাশ’ প্রসঙ্গ
​বেলডাঙা ২ ব্লকের বাসিন্দা মইনুল হক রানা হুমায়ুন প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপির এক কথিত ‘ডিল’ সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। আর এর পরেই মেজাজ হারান হুমায়ুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি কিউ ইন্ডিয়া বাংলা) তাঁকে বলতে শোনা যায়-
​“মরার আগে ১০০ টা লাশ পুঁতব, তারপর আমার কবর হবে। তুই (মইনুল) তো চুনোপুটি। তোর গলা চেপে তুলে এনে এই বাবরি মসজিদে কবর দেব।”
​তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ
​হুমায়ুন কবীর কেবল মইনুল হক রানাকেই নয়, আক্রমণের নিশানায় রেখেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পিএ সুমিত রায়কেও। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীদেরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর অত্যন্ত অপমানজনক ও মানহানিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে।
কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল
​তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য আদর্শ আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। ভোটারদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানানো হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ: তৃণমূলের দাবি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩৫১ (ভীতি প্রদর্শন), ৩৫৬ (মানহানি) এবং ১৭৪ ধারা অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দাবি: হুমায়ুন কবীরকে অবিলম্বে শোকজ করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার আবেদন জানিয়েছে শাসক দল।
​নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদ ও সংলগ্ন এলাকায় এই খুনের হুমকি এবং সাম্প্রদায়িক স্পর্শকাতর স্থানে ‘কবর দেওয়া’র মতো মন্তব্য ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *