নতুন বছরে নবজন্ম! শিশুর শ্বাসনালি থেকে বেরোল মুরগির হাড়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: নতুন বছরের আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গিয়েছিল চরম আতঙ্কে। খাওয়ার সময় দু’বছরের এক শিশুর শ্বাসনালিতে আটকে গিয়েছিল মুরগির হাড়। প্রাণসংশয় দেখা দিয়েছিল মালদহের বাসিন্দা ওই একরত্তির। কিন্তু এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকদের তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল সে। চিকিৎসকদের ভাষায়, এটি ছিল একটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং অস্ত্রোপচার।
ঠিক কী ঘটেছিল?
নতুন বছরের উৎসবে মেতেছিল পরিবার। কিন্তু মাংস খাওয়ার সময় হঠাৎই শিশুর শ্বাসনালির শুরুতে অর্থাৎ ‘সাবগ্লটিস’ অংশে মুরগির হাড়ের একটি টুকরো আটকে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাবগ্লটিস হলো শ্বাসনালির একেবারে শুরুর দিক। এখানে কিছু আটকে যাওয়া মানেই অক্সিজেন চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। হাড়টি আটকে যাওয়ায় শিশুটির ফুসফুসে পর্যাপ্ত বাতাস ঢুকতে পারছিল না, যার ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে।
এসএসকেএম-এ তৎপরতা
অবস্থা বেগতিক দেখে কালবিলম্ব না করে শিশুটিকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম-এর ইনস্টিটিউট অফ অটো রাইনো ল্যারিঙ্গোলজি হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের জরুরি বিভাগে। বিভাগের ডিরেক্টর ডা. অরুণাভ সেনগুপ্তর তত্ত্বাবধানে দ্রুত একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। শল্য চিকিৎসক ডা. সায়ন হাজরা জানান, “সাবগ্লটিসে কিছু আটকে যাওয়া মানেই চরম বিপদ। কথা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটু দেরি হলেই মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।”
অস্ত্রোপচারের সাফল্য
অত্যন্ত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা ‘রিজিড ব্রঙ্কোস্কপি’ পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুটির শ্বাসনালি থেকে সফলভাবে হাড়ের টুকরোটি বের করে আনেন। এই জীবনদায়ী অস্ত্রোপচার টিমে ডা. সায়ন হাজরা ছাড়াও ছিলেন ডা. দিব্যা দাগা, ডা. ভাস্কর বিশ্বাস এবং ডা. পূর্বা ঘোষ। অ্যানাস্থেটিস্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডা. সমীরণ গুপ্ত ও ডা. ঋতব্রত হালদার। বর্তমানে শিশুটি বিপন্মুক্ত। চিকিৎসকদের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া শিশুটির পরিবারে। তবে ছোট শিশুদের খাওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
