আজকের দিনেবাংলার আয়না

Enforcement Branch Raid : বৃষ্টির দাপটে আগুন সবজির বাজার, দাম নিয়ন্ত্রণে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের অভিযান !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- বর্ষার টানা বৃষ্টিতে নাজেহাল জনজীবনের পাশাপাশি এবার বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি বাজারেই প্রতিদিন বাড়ছে সবজির দাম। কোথাও এক দাম, কোথাও আবার অন্য দাম একই সবজি ভিন্ন বাজারে ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছেন।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রবিবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক বাজারে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি) এবং পুলিশ। লক্ষ্য একটাই সবজির দামে স্বচ্ছতা আনা এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোখা। কলকাতার শ্যামবাজার, কোলে মার্কেট, গড়িয়া বাজার, যাদবপুর বাজার-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে গিয়ে আধিকারিকরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। কোন সবজি কত দামে বিক্রি হচ্ছে, কেন প্রতিদিন দাম বাড়ছে বা কমছে, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি ক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলে বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন তাঁরা।

শুধু কলকাতাতেই নয়, জেলার বাজারগুলিতেও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের দেউলিয়া বাজার ও কোলাঘাট এলাকায় ব্লক প্রশাসন এবং স্থানীয় বিধায়ক হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে আলু, পেঁয়াজ ও অন্যান্য সবজির বিক্রিমূল্য যাচাই করেন। একই সঙ্গে সারের দোকানেও নজরদারি চালিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে খোঁজ নেওয়া হয় অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরের কাছারি বাজার এবং নদিয়ার শান্তিপুরেও একই ধরনের অভিযান চলে, যেখানে প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, কয়েক দফার টানা ভারী বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে সবজি তোলা এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম দ্রুত বেড়েছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, পাইকারি বাজারে যে দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে, খুচরো বাজারে তার সঙ্গে বড়সড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পাইকারি বাজারে পটল বা ঢেঁড়সের দাম যেখানে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে, সেখানে খুচরো বাজারে তা ৫০ টাকার নিচে পাওয়াই কঠিন। একইভাবে পেঁপে ও কুমড়ো ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, বেগুনের দাম পৌঁছে গিয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, করলা ও ঢেঁড়সের মতো প্রায় সব ধরনের সবজির দামই ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচালঙ্কা ২০০ টাকা কেজি এবং টমেটো ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

শুধু সবজিই নয়, ডিমের বাজারেও একই ছবি। হাঁসের ডিমের দাম বেড়ে হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা প্রতি পিস। পোলট্রি মুরগির ডিমের জোড়া বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫ টাকায়। অর্থাৎ রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপকরণের দামই একসঙ্গে বাড়তে শুরু করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচে বড় চাপ পড়ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বর্ষাকালে সবজির দাম কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক হলেও এ বছরের টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত এক মাসে অনেক সবজির দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাজারদরে। প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই এখন নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের স্বস্তি। কারণ শুধু অভিযান চালালেই হবে না, বাজারে যেন প্রকৃত অর্থেই ন্যায্য দামে সবজি বিক্রি হয়, সেই বিষয়েও দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি বজায় রাখা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *