আজকের দিনেবাংলার আয়না

Durgapur : ভাড়া বাড়ি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা, দুর্গাপুরের তপবন সিটির বাসিন্দাদের সচেতন থাকার বার্তা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- দুর্গাপুরের অন্যতম বৃহৎ আবাসন তপবন সিটি। কাঁকসার এই বহুতল আবাসনে রয়েছে একাধিক টাওয়ার, যেখানে হাজার হাজার মানুষের বসবাস। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মসূত্রে বহু মানুষ পরিবার নিয়ে এখানে থাকেন। ফলে প্রতিদিনই নতুন মুখের আনাগোনা লেগেই থাকে। আর সেই কারণেই নিরাপত্তা নিয়ে এবার আরও বেশি সচেতন হওয়ার বার্তা দিলেন স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভাড়া বাড়িকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বহু ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়িকে ব্যবহার করা হয়েছে গোপন আস্তানা হিসেবে। পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিং থেকে জইশ-যোগে অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তারের পর দুর্গাপুর-সহ আশপাশের আবাসনগুলিতেও বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। যদিও নিউটাউনের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জঙ্গি যোগের প্রমাণ মেলেনি, তবুও নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।

তপবন সিটির বাসিন্দাদের উদ্দেশে বিধায়ক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কেউ ফ্ল্যাট ভাড়া দিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়ার আধার, ভোটার পরিচয়পত্র-সহ প্রয়োজনীয় নথির কপি স্থানীয় থানায় জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আবাসনের আশপাশে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ নজরে এলে তা দ্রুত প্রশাসন বা পুলিশের কাছে জানাতে হবে। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে অতীতের একাধিক ঘটনা। কয়েক বছর আগে কয়লা ব্যবসায়ী রাজু ঝা হত্যা মামলার এক অভিযুক্তকে দুর্গাপুরের এই তপবন সিটি আবাসন থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে কাঁকসা এলাকা থেকে বাংলাদেশের একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে এক ছাত্র-সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছিল।

ঘনবসতিপূর্ণ আবাসনগুলিতে প্রতিদিন বহু নতুন মানুষের যাতায়াত থাকায় পরিচয় যাচাই এবং ভাড়াটিয়াদের তথ্য নথিভুক্ত করা এখন নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে তা গোপন না রেখে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতাতেই আবাসনের নিরাপত্তা আরও মজবুত করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *