বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধূলাউড়ির পঞ্চায়েত প্রধান সিপিএমের রুনা লায়লা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মুর্শিদাবাদঃ ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ডোমকল জয়ের পর গোটা মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়েই যেন বাড়ছে কাস্তে-হাতুড়ির ধার। এবার সেই ডোমকলের রাজনৈতিক মাটি আরও লাল হয়ে উঠল। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রধান পেল ডোমকল ব্লকের ধূলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত। তৃণমূলের অনুপস্থিতিতে, কংগ্রেস ও বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যদের সমর্থনে সেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান নির্বাচিত হলেন সিপিএম প্রার্থী রুনা লায়লা বিবি।
কড়া নিরাপত্তায় সভা, হলো না ভোটাভুটি
বৃহস্পতিবার কড়া পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার বলয়ে ধূলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কার্যত কোনও ভোটাভুটির প্রয়োজনই পড়েনি। ৩০ সদস্যের এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশেষ সভায় এদিন উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৫ জন সদস্য। যার মধ্যে সিপিএমের ১১ জন, কংগ্রেসের ২ জন এবং বিজেপির ২ জন সদস্য ছিলেন। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সদস্য এই সভায় অংশ নেননি। ফলে বিরোধী জোটের উপস্থিতিতেই সিপিএমের রুনা লায়লা বিবিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশে মিলল সমাধান
এর আগে গত ৩ জুন এবং ১৬ জুন ধূলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান নির্বাচনের দিন ধার্য করা হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী না থাকার কারণে প্রশাসন তা স্থগিত করে দেয়। এরপরই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিরোধী পক্ষ। আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের পরেই ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) কড়া নিরাপত্তায় এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
দলবদল ও অনাস্থার টানাপোড়েন
উল্লেখ্য, গত প্রায় ৫০ দিন আগে অনাস্থা প্রস্তাবে অপসারিত হয়েছিলেন ধূলাউড়ির তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধান পিঞ্জুরা বিবি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসের সমর্থনে সিপিএমের টিকিটেই প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। এর জেরে গত ১৯ মে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে পিঞ্জুরা বিবিকে পদ থেকে অপসারিত করা হয়।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, অপসারিত হওয়ার পর পিঞ্জুরা বিবি ফের সিপিএমে ফিরে আসেন এবং বৃহস্পতিবারের সভাতেও উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর দাবি, দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে ফের প্রধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভায় ডেকেছিল, কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন অন্য সদস্যের নাম প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলি?
পিঞ্জুরা বিবির এই অভিযোগ অবশ্য পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের ডোমকল এরিয়া কমিটির সদস্য অখিল সরকার দাবি করেন, “কাউকে কোনও আগাম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। পিঞ্জুরা বিবি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নতুন প্রধান রুনা লায়লা বিবিকে সমর্থন জানিয়েছেন।”
অন্যদিকে, এই নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থীকে বিজেপির সমর্থন করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপির ডোমকলের নেতা নন্দদুলাল পাল জানান, “এটি সম্পূর্ণ স্থানীয় স্তরের একটি বিষয়। তবে নীতিগতভাবে বা আদর্শগত দিক থেকে বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের কোনও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।”
তৃণমূলের গড় হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদে বিধানসভা ভোটের পর পঞ্চায়েত স্তরে বামেদের এই ক্ষমতা দখল জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
