নিউটাউনের গেস্ট হাউস থেকে উদ্ধার সোয়া ২ কোটিরও বেশি নগদ, গ্রেপ্তার ৭
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: নিউটাউনের বুকে যেন হদিশ মিলল ‘কুবেরের ধনে’র! এক গেস্ট হাউসে হানা দিয়ে রাশি রাশি টাকার বাণ্ডিল উদ্ধার করল পুলিশ। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া ম্যারাথন তল্লাশি চলল প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে। আর তাতেই উদ্ধার হলো ২ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা নগদ। বিপুল পরিমাণ এই টাকা গুনতে শেষ পর্যন্ত নিয়ে আসতে হয় ৬টি নোট গোণার মেশিন। তিন ট্রলিভর্তি সেই অর্থ ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে একটি গাড়ি ও একটি স্কুটিও জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক মহিলা-সহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভিনরাজ্যের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
জামতাড়া গ্যাংয়ের ছায়া? ভাবাচ্ছে পুলিশকে
প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই বিপুল অঙ্কের টাকার নেপথ্যে কোনো বড়সড় হাওয়ালা চক্র অথবা সাইবার প্রতারণার যোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর:
-
নিরাপদ আশ্রয়: ভুয়ো কলসেন্টারের নাম করে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলা হতো। আর তা জমিয়ে রাখার ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো নিউটাউনের এই গেস্ট হাউসটিকে।
-
কায়দা: ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত ‘জামতাড়া গ্যাং’-এর কায়দায় এই চক্রটি চালানো হচ্ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
-
গোপনীয়তা: দিনের পর দিন এই কারবার চললেও স্থানীয় বাসিন্দারা বিন্দুমাত্র টের পাননি। এতটাই গোপনে ও চতুরতার সাথে কাজ গুছিয়েছিল প্রতারকেরা।
নজরে গেস্ট হাউসের মালিক
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিউটাউনের ২০ নম্বর ট্যাঙ্কের কাছে বালিগড়ি এলাকার ওই গেস্ট হাউসটির মালিকের নাম প্রসন্নকুমার রায়। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন বা এই চক্রের সাথে সরাসরি যুক্ত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে খবর: গেস্ট হাউসের সামনে থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়ি ও স্কুটির মালিক আসলে কে, তাও এখনও অজ্ঞাত।
এত বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস কী এবং এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে তদন্তের গতি আরও বাড়িয়েছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল চক্রীর হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
