অন্ডাল থেকে হাওড়া, একাধিক জেলায় সাতসকালে ইডির তল্লাশি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ ফের সাতসকাল থেকে অ্যাকশনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় একযোগে অভিযানে নামলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। ক্রিপ্টো কারেন্সি জালিয়াতি থেকে শুরু করে চিটফান্ড এবং শেয়ার বাজারের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার তদন্তে এই মেগা তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর। দুর্গাপুরের অন্ডাল, হাওড়ার ব্যাঁটরা এবং নদিয়ার কালিনারায়ণপুরে অভিযুক্তদের বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
অন্ডালে ক্রিপ্টো জালিয়াতি
দুর্গাপুরের অন্ডালের শ্রীপল্লি সুভাষনগর রিক্সাডাঙাল এলাকার বাসিন্দা দিলীপ মল্লিক। তিনি ইসিএল-এর প্রাক্তন কর্মী। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়িতে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা।
- অভিযোগ কী? সূত্রের খবর, দিলীপ মল্লিক ও তাঁর পুত্র দিগন্ত মল্লিকের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে একটি অফিস খুলে এই পিতা-পুত্র প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন।
- দুবাই যোগ ও আন্তর্জাতিক পাচার: অভিযোগ, সোশাল মিডিয়ায় চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলেছিলেন দিগন্ত। এই টাকার একটি বড় অংশ দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা: এর আগেও দিগন্ত গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিন পান। সম্প্রতি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিশ পায় ইডি। সেই সুত্র ধরেই আজ সকালে তাঁদের অন্ডালের বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
হাওড়ায় চিটফান্ড কাণ্ডে ইডি হানা
অন্যদিকে, হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার অন্তর্গত কুচিল সরকার লেনের বাসিন্দা সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও এদিন সকালে হানা দিয়েছে ইডি-র একটি দল।
- অভিযোগ কী? সূত্রের খবর, সৌরভ একাধিক বেআইনি চিটফান্ড কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তিনি শেয়ার মার্কেটের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। আর্থিক তছরুপের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই আজ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নদিয়ায় ‘স্টক গুরুকুল’-এর নামে প্রতারণা
একই দিনে ইডি-র নজরে নদিয়ার রানাঘাটের কালিনারায়ণপুরের ব্যবসায়ী শুভ্রকান্তি নাগ ওরফে বাবাই নাগ। তাঁর বাড়িতেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে পৌঁছান ইডি আধিকারিকরা।
- অভিযোগ কী? শুভ্রকান্তি ‘স্টক গুরুকুল’ নামে একটি সংস্থা চালাতেন। অভিযোগ, শেয়ার বাজারের প্রশিক্ষণ এবং মোটা টাকা রিটার্নের লোভ দেখিয়ে তিনি মূলত একটি জাল চিটফান্ড সংস্থা ফেঁদে বসেছিলেন। সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে তল্লাশি অভিযান চলাকালীন ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।
তদন্ত জারি: রাজ্যের তিন প্রান্তে এই ত্রিমুখী অভিযানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির মূল শিকড়ে পৌঁছাতে চাইছে ইডি। ডিজিটাল লেনদেনের নথি, ব্যাঙ্কের পাসবই এবং ল্যাপটপ-মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে খতিয়ে দেখার কাজ চলছে বলে ইডি সূত্রে খবর।
