আজকের দিনেবাংলার আয়না

তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিল থেকে মুক্তি! ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নন্দীগ্রাম: রেকর্ড গরমে যখন চড়চড় করে বাড়ছে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিলের বোঝা, ঠিক তখনই রাজ্যবাসীকে স্বস্তির পথ দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বিদ্যুতের মাশুল অনেকটাই বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কমাতে এবার ‘সৌর বিদ্যুৎ’ ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন তিনি। সোমবার নন্দীগ্রামে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর উদ্বোধন করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই বিকল্প পথ অবলম্বন করলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষকে আর চড়া ইলেকট্রিক বিলের মুখোমুখি হতে হবে না।

​‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ যোজনায় মিলবে বিপুল ভর্তুকি
​রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক কেন্দ্রীয় জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করেছেন বাংলার মানুষ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো মোদি সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা’।
​নন্দীগ্রামের সভামঞ্চ থেকে এই প্রকল্পের ভর্তুকির খতিয়ান রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য গ্রাহকদের আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ​১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সোলার প্ল্যান্টের জন্য ৩০,০০০ টাকা দেবে সরকার। ​২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মিলবে ৬০,০০০ টাকা। ৩০০ ইউনিট সৌর প্ল্যানের ক্ষেত্রে ভারত সরকার রাজ্য প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি ৭৮,০০০ টাকা অনুদান দেবে।
​মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রান্তিক মানুষ যাঁরা চড়া ইলেকট্রিক বিল দিতে পারছেন না, তাঁরা অবিলম্বে এই সুবিধা নিন। এই টাকায় বাড়িতে সৌর প্লেট বসানো হলে আগামী দিনে ইলেকট্রিক বিল আর আপনার কাছে আসবে না।”

কীভাবে করা যাবে আবেদন?
​মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই যোজনার সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে ‘জনকল্যাণ শিবির’ শুরু হয়েছে। এই জনকল্যাণ শিবিরগুলি থেকেই সরাসরি প্রকল্পের আবেদনপত্র পাওয়া যাবে।
​এ ছাড়া, সাধারণ মানুষ চাইলে অনলাইনেও ‘পিএম সূর্য ঘর যোজনা’-র অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে সরাসরি আবেদন জানাতে পারবেন।

পূর্বতন সরকারের নীতি বনাম ডবল ইঞ্জিন সরকারের তৎপরতা
​বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বিদ্যুতের উচ্চ মাশুল নিয়ে একাধিকবার আন্দোলন হলেও সাধারণ মানুষ কোনো সুরাহা পাননি। তবে বাংলায় সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্রের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ যোজনার মাধ্যমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার এই সুযোগ রাজ্যবাসীর ক্ষোভ ও আর্থিক বোঝা— দুই-ই অনেকটাই লাঘব করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *