আজকের দিনেবাংলার আয়না

বেনজির কান্ড মুর্শিদাবাদে, বাড়ির দেওয়ালে বল লাগায় শিশুদের ওপর গুলিবর্ষণ শিক্ষকের

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বাড়ির দেওয়ালে বল লাগায় শিশুদের উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠলো এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে । এই ঘটনায় আহত এক শিশু । বর্তমানে হাসপাতালে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে । ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার বানিপুর এলাকার। অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে এবং তার বাড়ি থেকে বন্দুকটি উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শিক্ষকের এই কীর্তিতে এলাকায় জুড়ে প্রবল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যার আগে রঘুনাথগঞ্জ থানার বানিপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে । স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী সেখানকার ওমরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষক সমীর কুমার মন্ডলের বাড়ির আশেপাশে ফুটবল খেলছিল ১০ থেকে ১২ জন শিশু । খেলা চলাকালীন অভিযুক্ত ঐ শিক্ষকের বাড়ির দরজায় এবং দেওয়ালে কয়েকবার বল লাগে । শিক্ষক সমীর কুমার মন্ডল বেশ কয়েকবার শিশুদের খেলতে বারণ করেন । কিন্তু শিশুরা মাঠে খেলতে থাকে তার পরেও। এবং রেগে গিয়ে তিনি পাখি মারার বন্দুক দিয়ে শিশুদের উদ্দেশ্যে গুলি চালান। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি সেই সময় চলে । সমীর কুমার মন্ডল খেলতে থাকা শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে পালানোর চেষ্টা করে। এবং সেই সময় এক শিশুর হাতে গুলি লেগে যায়। এবং তাকে আহত অবস্থায় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় । স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে অভিযোগ জানালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষককে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আহত শিশুর বাবা বিশ্বজিৎ সাহা সংবাদ মাধ্যমকে জানান
” প্রতিদিনের মতো ১০ থেকে ১২ জন বাচ্চা খেলছিল । বল সমীর মন্ডলের বাড়ির দরজায় লাগবেই তিনি বন্দুক থেকে গুলি চালান। এবং আমার ছেলের হাতে গুলি লাগে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছেলেকে জঙ্গিপুর মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাই” ।

ধৃত শিক্ষক সমীর কুমার মন্ডলের দাবি তিনি ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই গুলি চালিয়েছিলেন তিনি বুঝে উঠতে পারেননি? কারো গায়ে গুলি লেগে যাবে। শিক্ষকের এই অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডে এলাকায় যথেষ্ট শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে । ঘটনা তদন্ত নেবে পুলিশ বন্দুকটির বৈধ লাইসেন্স আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখেই কলকাতা থাকে এই বন্দুকটি কেনা হয়েছিল । ঘটনার পর থেকে এলাকার শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা । তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *