আজকের দিনেবাংলার আয়না

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,দুর্গাপুর: দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় ঘটে গেল এক চরম মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনা। কারখানার ২ নম্বর ব্লাস্ট ফার্নেসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার সময় গরম স্ল্যাগ (বর্জ্য তরল ধাতু) ভর্তি ল্যাডেলের ভেতর পড়ে গিয়ে জীবন্ত দগ্ধ হলেন এক ঠিকা শ্রমিক। মৃতের নাম শেখ শহিদুল (২৭)। তিনি দুর্গাপুরের আরতি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই কারখানার ভেতরে ও বাইরে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ ও চাকরির দাবিতে কারখানার গেটে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন শ্রমিকরা।

কিভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক পরিণতি

কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতের শিফটে ব্লাস্ট ফার্নেস বিভাগে কাজ করছিলেন শেখ শহিদুল। গভীর রাতে কাজ করার সময় আচমকাই একটি রড ভেঙে যায় এবং ভারসাম্য হারিয়ে তিনি সোজাসুজি ফুটন্ত গরম স্ল্যাগ ভর্তি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে যান। তরল ধাতুর তীব্র উত্তাপে মুহূর্তের মধ্যে কুণ্ডলী পাকিয়ে যায় তাঁর দেহ। বেশ কিছু সময় পর বিষয়টি জানাজানি হলে সহকর্মীরা গিয়ে তাঁর ঝলসানো মৃতদেহ উদ্ধার করেন। দেহটি এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে চেনার কোনো উপায় নেই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা মৃত শ্রমিকের সহকর্মী মনোজ রুইদাস জানান: “আমরা দু’জনে একসঙ্গেই কাজ করছিলাম। আমি কিছুক্ষণের জন্য বাইরে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি শহিদুল সেখানে নেই, সবজি খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি, ও ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে মারা গিয়েছে। ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটল তা দেখতে পাইনি, তবে মনে হচ্ছে কোনো রড ভেঙে যাওয়ার কারণেই ও নিচে পড়ে যায়।”

নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগে

এই ভয়াবহ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সহকর্মীরা। শনিবার সকাল থেকেই কারখানার বাইরে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের মূল দাবিগুলি হলো:

  • মৃত শ্রমিকের পরিবারকে অবিলম্বে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

  • পরিবারের একজন সদস্যকে অবিলম্বে সংস্থায় স্থায়ী বা অস্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

  • এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী গাফিলতি ছিল, তার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

  • ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কারখানার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

রোজকার মতোই সুস্থ শরীরে কাজে যোগ দিয়েছিলেন শেখ শহিদুল, কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগেই কারখানা থেকে বেরোল তাঁর দগ্ধ দেহ। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারে যেমন কান্নার রোল উঠেছে, তেমনই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যেও সুরক্ষার প্রশ্নে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানা চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *