বিদেশে পালানোর ছক কষছিলেন জাহাঙ্গির খান, কাঠমান্ডু হয়ে দুবাই-থাইল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা ফাঁস
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- কাঠমান্ডু থেকে নকল পাসপোর্টে সপরিবার বিদেশে পালানোর ছক কষেছিলেন ফলতার একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। কিন্তু তার আগেই দার্জিলিংয়ের পানিট্যাঙ্কি বাজার থেকে রাজ্য পুলিশের STF-এর জালে ধরা পড়লেন তিনি। ৫ জুন পার্ক সার্কাস থেকে ক্যাবে শুয়ে, মুখে নীল গামছা চাপা দিয়ে জলপাইগুড়ি পালিয়েছিলেন জাহাঙ্গির।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, স্লিপ ডিস্কের সমস্যা এবং চিনে ফেলার ভয়— দুই কারণেই সেভেন সিটারের ক্যাবের সিটে শুয়ে ছিলেন তিনি। টোল প্লাজা বা রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরায় যাতে মুখের ছবি না ওঠে, তাই মুখের উপর নীল গামছা ফেলে রেখেছিলেন।
জলপাইগুড়ি শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে এক গৃহস্থের বাড়িতে দু’দিন গা ঢাকা দেন। পরিকল্পনা ছিল, সেখান থেকে পানিট্যাঙ্কি মোড় দিয়ে মেচি নদীর ব্রিজ পেরিয়ে নেপালের কাঁকরভিটায় ঢুকে কাঠমান্ডু পৌঁছনো। কাঠমান্ডুতে তাঁর জন্য নকল পাসপোর্ট বানানোর তোড়জোড় চলছিল। সেখান থেকে বিমানে আরবের কোনও দেশ, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল।
জাহাঙ্গিরের এক ঘনিষ্ঠ, ফলতার এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককে বেশ কিছু টাকা দিয়ে কাঠমান্ডু পাঠিয়েছিলেন তিনি। ওই চালককেই নকল পাসপোর্টের ব্যবস্থা ও সপরিবার গা ঢাকা দেওয়ার বন্দোবস্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাঠমান্ডু থেকে ফলতায় গাড়ির মালিককে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিয়ো কল করতেই বিষয়টি নজরে আসে তদন্তকারীদের। পরে ভারতে ঢোকার সময় ওই যুবককে আটক করে জেরা করেই জাহাঙ্গিরের পানিট্যাঙ্কি হয়ে নেপালে ঢোকার পরিকল্পনা জানতে পারে পুলিশ।
সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নকশালবাড়ির এসডিপিও এবং রাজ্য পুলিশের STF-এর টিম ফাঁদ পাতে। ৮ জুন পানিট্যাঙ্কি বাজার থেকে গ্রেপ্তার হন জাহাঙ্গির।
বৃহস্পতিবার ধৃত জাহাঙ্গিরকে ফলতার সহরাহাট বাজার এলাকায় বারমুডা পরিয়ে হাঁটায় পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পুনর্নির্মাণের জন্য আনা হয়। পুলিশের একাংশের দাবি, একসময়ে ফলতার ত্রাস জাহাঙ্গিরকে নিয়ে স্থানীয়দের মনে ভয় কাটাতেই এই পদক্ষেপ।
নির্বাচনী সন্ত্রাস, মারধর, লুটপাট, খুনের চেষ্টা-সহ ৮টি মামলা রয়েছে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। ২১ মে ফলতার উপনির্বাচনের আগে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করে উবে গিয়েছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, ভোটের সময় এলাকাতেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। পরে পার্ক সার্কাসের ফ্ল্যাটে চলে যান। সেই সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেননি, সব সিম কার্ড ফলতায় রেখে যান।
নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করা জাহাঙ্গির খানের বিদেশে পালানোর ছক ভেস্তে দিল রাজ্য পুলিশ। নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কিতেই শেষ হল তাঁর কাঠমান্ডু হয়ে দুবাই-থাইল্যান্ড পালানোর পরিকল্পনা। ৮টি মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূলের এই দাপুটে নেতার গ্রেপ্তারিতে ফলতার রাজনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে পুলিশ মহল।
