স্পিকার ওম বিড়লাকে সরানোর প্রস্তাব খারিজ, শাহের নিশানায় বিরোধী জোট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে সরানোর প্রস্তাব খারিজ হল । কংগ্রেসের আনা এই প্রস্তাবে সই করেনি তৃণমূল । পরবর্তীকালে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই প্রস্তাবে সমর্থন করে বাংলা শাসক দল । প্রত্যাশিত সংখ্যা না থাকায় খারিজ হয়ে যায় বিরোধীদলের আনা এই প্রস্তাব । এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লোকসভা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী দলগুলির উদ্দেশ্যে তোপ দাগেন।
বিগত ২০২৪–এর লোকসভা ভোটের পর থেকে ক্রমাগত দূরত্ব বেড়েছে বিরোধী ‘ইন্ডি’র দুই শরিক কংগ্রেস ও তৃণমূলের । বাংলায় আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে আবার কাছাকাছি দুই শিবির। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস একাই লড়বে— শতাব্দী প্রাচীন দলের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেও সাম্প্রতিক দু’টি ইস্যু জাতীয় রাজনীতিতে দু’দলকে কাছাকাছি এনে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একটি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের তরফে নিয়ে আসা অপসারণ প্রস্তাব এবং অন্যটি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব ।
লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাশামতোই পাশ হয়নি। ধ্বনি ভোটে হেরে যান বিরোধীরা। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছিল না ।এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “স্পিকার কোনও দলের প্রতিনিধি নন, তিনি সভার অভিভাবক। তাই স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই সংসদের চূড়ান্ত নির্দেশ হিসেবে গণ্য হয়।’ তাঁর মতে, ‘লোকসভা দেশের গণতন্ত্রের পঞ্চায়েত, আর সেই পঞ্চায়েতের মুখিয়ার উপর আস্থা না রাখা মানে গণতন্ত্রের শিকড়েই আঘাত করা। লোকসভা কোনও মেলা নয়, যেখানে নিয়ম ভেঙে যা খুশি বলা যাবে” ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন “বিরোধীরা নিজেদের প্রস্তাব নিয়েই সিরিয়াস ছিলেন না। তিনি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। শাহর দাবি, লোকসভায় তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে কংগ্রেস সাংসদদের বিজেপির তুলনায় অনেক বেশি সময় দেওয়া হয়েছে। সপ্তদশ লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদরা বিজেপির তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি সময় পেয়েছেন”।
