আজকের দিনেভারত

দিল্লিতে গ্রেপ্তার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই কয়লা পাচার মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সোমবার দিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হল ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত চালাচ্ছে। সূত্রের খবর, এই তদন্তের অঙ্গ হিসেবেই চলতি মাসের ২ তারিখে ইডির আধিকারিকরা ভিনেশ চান্ডেলের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন। এরপরেই সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে। আগামী বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শীর্ষ আদালতে শুনানির ঠিক আগে এই গ্রেপ্তারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইডির অভিযোগ, বাংলায় কয়লা পাচার চক্রে হাওয়ালার মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকার হাতবদল হয়েছে, যার সঙ্গে এই সংস্থার কর্তাদের যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

 ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তারের আগে আইপ্যাকের আরও দুই ডিরেক্টর প্রতীক জৈন এবং ঋষি রায় সিংকেও তলব করেছিল ইডি। তবে আসন্ন নির্বাচনের কারণে, ভোটের পর ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন। কয়লা পাচার মামলার তদন্ত ঘিরে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে আইনি লড়াই চরমে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের অফিসে ইডি অভিযান চালালে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সংঘাত:

  • ইডির অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছেন।

  • মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ: নির্বাচনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইডি আইপ্যাকের অফিস থেকে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গোপন নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করেছে।

ভোটের মুখে আইপ্যাক কর্তার এই গ্রেপ্তারি স্বভাবতই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *