আজকের দিনেবাংলার আয়না

উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য ঐতিহাসিক প্যাকেজ ঘোষণা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-আবাসে বড় বদল ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- উত্তরবঙ্গের চা বাগানের কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন ৩১৩.৩০ কোটি টাকার ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রণোদনা যোজনা’ বা PMCSPY। রাজ্যস্তরীয় কমিটি সম্প্রতি এই প্রকল্পের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। লক্ষ্য একটাই – চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাসস্থানের সামগ্রিক উন্নয়ন।

দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের চা বাগান এলাকার শ্রমিকরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছেন। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানেই এই বৃহৎ প্রকল্প। বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্বে থাকবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর বা NBDD। প্রকল্প রূপায়ণে স্বাস্থ্য দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সামগ্রিক শিক্ষা মিশন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ হবে বলে জানানো হয়েছে।

PMCSPY প্রকল্পের অধীনে ৩টি প্রধান যোজনা থাকছে:

  •  চা শ্রমিক শিক্ষা যোজনা – CSSY | বরাদ্দ: ১৭ কোটি টাকা
    চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতেই এই বরাদ্দ। বাগান এলাকায় নতুন স্কুল ঘর, লাইব্রেরি, ডিজিটাল ক্লাসরুম ও পানীয় জল-শৌচালয়ের মতো মৌলিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দূরের স্কুলে যেতে না পারা বহু ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে।
  • চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিকল্পনা – CSSSY | বরাদ্দ: ৭২ কোটি টাকা
    চা বাগানগুলিতে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করা হবে এই অর্থে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসক-নার্সের সংখ্যা বাড়ানো হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য শিবির, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি পরিষেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।
  •  চা শ্রমিক আবাস যোজনা – CSAY | বরাদ্দ: ৬৩ কোটি টাকা
    কাজের ফাঁকে বিশ্রামের জন্য চা বাগানগুলিতে তৈরি হবে ৩২১টি আধুনিক বিশ্রামাগার বা রেস্ট শেড। এর মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় ৮টি এবং সমতলের বাগানগুলিতে ২৩টি। প্রতিটি শেডে থাকবে অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, আরামদায়ক বসার জায়গা এবং পরিচ্ছন্ন শৌচালয়। গরম, বৃষ্টি বা শীত – যেকোনো আবহাওয়ায় শ্রমিকরা এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্রাম নিতে পারবেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রকল্প শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্য নয়, এটি উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার নিশ্চয়তা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আবাস – এই তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে PMCSPY চা বলয়ের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে বলে আশা সরকারের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *