কয়লা চুরি ও অবৈধ খনন রুখতে এবার সরাসরি আইনি ময়দানে CISF!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,আসানসোল: কয়লা পাচার এবং খনি অঞ্চলে অবৈধ খনন রুখতে এক যুগান্তকারী ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। এবার থেকে কয়লা চুরি রুখতে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স বা সিআইএসএফ-কে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হলো। এই নতুন আইনি এক্তিয়ারের ফলে, এখন থেকে সিআইএসএফ জওয়ান ও আধিকারিকরা চোর বা পাচারকারীদের হাতেনাতে ধরার পাশাপাশি সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন। এতদিন পর্যন্ত এই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে এই ধরনের কোনো সরাসরি আইনি ক্ষমতা ছিল না।
শীতলপুর সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
এই নতুন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে মাঠপর্যায়ে দ্রুত কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। সিআইএসএফ-এর ডিআইজি কে পি সিং আসানসোলের শীতলপুরে বাহিনীর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাহিনীর সিনিয়র কমান্ডান্ট রাহুল সিং গৌতমসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও জওয়ানদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকে নতুন আইনি ক্ষমতার সঠিক, কঠোর এবং কার্যকর প্রয়োগ কীভাবে করা হবে— সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন ডিআইজি।
ইসিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি
শীতলপুরের বৈঠক শেষে সিআইএসএফ-এর ডিআইজি কে পি সিং সরাসরি ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ইসিএল-এর সদর দপ্তরে যান। সেখানে সংস্থার সিএমডি সতীশ ঝার সঙ্গে তিনি এক যৌথ বৈঠকে মিলিত হন। খনি অঞ্চলে অবৈধ খনন এবং কয়লা চুরি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে ইসিএল কর্তৃপক্ষ ও সিআইএসএফ-এর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও কীভাবে জোরদার করা যায়, তা নিয়ে দুই শীর্ষ কর্তার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
উল্লেখ্য, সিআইএসএফ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা একটি অত্যন্ত দক্ষ সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। মূলত দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিকাঠামো, যেমন— বিমানবন্দর, মেট্রো রেল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলায় এই বাহিনী।
পশ্চিমবঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই খনি অঞ্চলগুলিতে ব্যাপক কয়লা পাচার এবং অবৈধভাবে মাটির নিচ থেকে কয়লা উত্তোলনের অভিযোগ বারেবারে উঠেছে। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তও চলছে। এতদিন সিআইএসএফ চোর ধরলেও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় পুলিশের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এবার সরাসরি আইনি ক্ষমতা পাওয়ায়, কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিআইএসএফ-এর হাত অনেকটাই শক্ত হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কয়লা পাচারের রমরমা রুখতে কেন্দ্রের এই বড় সিদ্ধান্ত আগামী দিনে খনি অঞ্চলে অপরাধের গ্রাফ অনেকটাই নামিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
