গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ! বাদ যেতে পারে ৪টি আঙুল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: একদিকে যখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন যে “রাজ্যে আর শাসকের নয়, আইনের শাসন চলবে”, ঠিক তখনই খাস কলকাতায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। শনিবার দুপুরে গড়িয়ার ভ্যালিপার্ক এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। আক্রান্ত যুবকের হাতের ৪টি আঙুল বাদ যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। বচসা থেকে আচমকা ছুরি নিয়ে হামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত এবং অভিযুক্ত দু’জনেই গড়িয়ার ভ্যালিপার্ক এলাকার বাসিন্দা। শনিবার দুপুরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে ওই বিজেপি কর্মীর ঝামেলার সূত্রপাত হয়। বচসা চলাকালীন আচমকাই ওই তৃণমূল কর্মী ধারালো ছুরি বের করে বিজেপি কর্মীর ওপর চড়াও হয় এবং কোপাতে শুরু করে বলে অভিযোগ।
গুরুতর জখম: আত্মরক্ষা করতে গেলে ওই যুবকের হাতে মারাত্মক আঘাত লাগে। ছুরির কোপে তাঁর হাতের ৪টি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়।
রক্তাক্ত পরিস্থিতি: প্রকাশ্য রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বিজেপি কর্মী। তাঁর আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
স্থানীয়রা দ্রুত রক্তাক্ত যুবককে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, তদন্তে রাজনৈতিক কোণ
খবর পেয়েই দ্রুত গড়িয়ার ভ্যালিপার্ক এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই নৃশংস হামলার পেছনে কোনো পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে, নাকি ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী কোনো রাজনৈতিক হিংসা কাজ করছে— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীর সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার দিনেই এই রক্তপাত: উঠছে প্রশ্ন কাকতালীয়ভাবে, আজ শনিবার দুপুরেই ডায়মন্ড হারবারের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান:
”আগে শাসকের শাসন ছিল। এখন আইনের শাসন আছে। পুলিশ আর কোনো দলের দলদাস হিসেবে কাজ করবে না।”
এমনকি পুলিশ-প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনীতি মুক্ত করতে আজই ‘রাজ্য পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ ভেঙে দেওয়ার মতো ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোট-পরবর্তী হিংসায় যুক্তদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার বুকেই এক বিরোধী দলের কর্মীর ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের এই কড়া বার্তার পরও দুষ্কৃতীদের মনে আইনের ভয় কোথায়? আপাতত গড়িয়ার পরিস্থিতি থমথমে, এলাকায় পুলিশি টহল চলছে।
