মোদির সুরে সুর মেলালেন কমল হাসান! নেপথ্যে কি রাজনৈতিক সমীকরণ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট। এর আঁচ এসে পড়েছে ভারতের বুকেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার পাশাপাশি বিদেশযাত্রা, বিলাসবহুল বিয়ে ও সোনা কেনায় রাশ টানার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং মন্ত্রীদের কনভয় কমানোর মতো কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার সঙ্গেই এবার সুর মেলালেন বর্ষীয়ান অভিনেতা, পরিচালক তথা রাজনীতিক কমল হাসান। দেশের চলচ্চিত্র শিল্প বা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে ‘অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা’ বন্ধ করার কড়া নিদান দিলেন এই তামিল সুপারস্টার।
“সব প্রেমের গল্প প্যারিসেই হতে হবে কেন?”
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে অযথা বাজেট বৃদ্ধি এবং অপচয়ের প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন কমল হাসান। সিনেমা নির্মাতাদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “দর্শককে পর্দায় ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ অভিজ্ঞতা দেওয়ার চক্করে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে শুটিং করার কোনো মানে হয় না। কেন প্রতিটি রোম্যান্টিক ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে প্যারিসকেই থাকতে হবে? আমাদের ভারতেই অসংখ্য সুন্দর লোকেশন রয়েছে। বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তাতে বিলাসিতা করে বিদেশ ভ্রমণের চেয়ে ‘দেশি’ লোকেশনে ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
বন্ধ হোক ‘লটবহর’ ও ভিআইপি সংস্কৃতি
কমল হাসান সাফ জানান, বড় বড় তারকাদের অযথা বিশাল লোকলস্কর (এনটুরেজ) এবং বিলাসবহুল কনভয় নিয়ে ঘোরার যে সংস্কৃতি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। দুর্বল পরিকল্পনা আর প্রোডাকশনের দেরির কারণেই সিনেমার বাজেট আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। অযথা হাইপ তোলার পেছনে টাকা না উড়িয়ে সেই অর্থ সিনেমার আসল খামতিগুলো পূরণে ব্যবহার করা উচিত।
সংকটের কোপ যেন দিনমজুরদের ওপর না পড়ে
ইন্ডাস্ট্রির বাজেট কাটছাঁটের পরামর্শ দিলেও কমল হাসান একটি বিষয়ে অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই অর্থনৈতিক মন্দার কোপ যেন কোনোভাবেই সিনেমার দিন আনি দিন খাই সাধারণ কর্মীদের ওপর না পড়ে।
-
শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা: টেকনিশিয়ান ও স্পট বয়দের মজুরি, নিরাপত্তা, মর্যাদা, খাবার, যাতায়াত কিংবা মানবিক কাজের পরিবেশের সাথে কোনো আপস করা চলবে না।
-
যৌথ আলোচনা: প্রযোজক, অভিনেতা, পরিচালক, পরিবেশক, প্রেক্ষাগৃহের মালিক এবং ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মগুলোকে একসঙ্গে বসে খরচ কমানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে।
সবশেষে বর্ষীয়ান এই অভিনেতা মনে করিয়ে দেন, আজ যদি সবাই মিলে সিনেমার অর্থনীতি রক্ষা করা না যায়, তবে আগামী দিনে এই বিনোদন শিল্পের ভবিষ্যৎ বড়সড় অন্ধকারের মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নিজের দল ‘মাক্কাল নিধি মাইয়াম’ গড়ে রাজনীতিতে পা রাখা কমল হাসান চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও “মোদী হঠাও, দেশ বাঁচাও” স্লোগান তুলেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পর এই প্রথম মোদীর সঙ্গে সহমত পোষণ করলেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ কমলের এই ভোলবদল নিয়ে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তামিল রাজনীতিতে মেগাস্টার বিজয়ের উত্থানের পর কমল হাসান নিজের মাটি শক্ত করতে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
