Zubair : ‘ধুরন্ধর’ স্টাইলে করাচির লায়রিতে গুলির লড়াই! গুরুতর আহত উজের বালোচের ভাই জুবের !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- বলিউড সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর পর ফের চর্চায় পাকিস্তানের কুখ্যাত লায়রি এলাকা। করাচির এই মাফিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে ফের রক্তপাত। শত্রুর মাথা কেটে ফুটবল খেলার জন্য কুখ্যাত উজের বালোচের ভাই জুবের বালোচকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাল দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুরুতর আহত জুবের সহ আহত ২ পথচারী।
ঘটনাটি ঘটেছে করাচির চাকিওয়ারা থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় নিজের বাড়ির সামনে বসে ছিলেন জুবের বালোচ। সেই সময় মোটরবাইকে চেপে আসা দুই যুবক আচমকা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই হামলায় জুবের শরীরে একাধিক গুলি লাগে। ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন আরও দুই পথচারী। তিনজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় করাচির হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কারা এই হামলা চালাল তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান পুলিশ।
পাক সংবাদমাধ্যম এর খবর অনুযায়ী, দাদা উজেরের মতো জুবেরের নামেও রয়েছে একাধিক ফৌজদারি মামলা। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৭টি মামলা রয়েছে। একাধিকবার জেলেও যেতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছিলেন। লায়রি এলাকায় দলের পতাকা লাগাতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।করাচিতে পুলিশের বড় অভিযানের পর লায়রির বহু মাফিয়া ও অপরাধী ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের জেরে অনেকে আবার পাকিস্তানে ফিরে এসেছে। এর জেরেই লায়রিতে নতুন করে গ্যাংওয়ার শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় উজের বালোচের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দানিশ। বর্তমানে উজের পাকিস্তানের জেলে বন্দি। খুন, খুনের চেষ্টা, ডাকাতি সহ একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কয়েক বছর আগে ভারতের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয় পাক আদালত। এই ঘটনার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছিল বলিউড সিনেমা ‘ধুরন্ধর’।
সিনেমার পর্দা থেকে বাস্তবের রাস্তায় নেমে এসেছে লায়রির ভায়োলেন্স। উজের বালোচের ভাইয়ের উপর হামলা নতুন করে গ্যাংওয়ারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফিরে আসা মাফিয়াদের কারণে করাচির এই এলাকা ফের অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
