আজকের দিনেভারত

মধ্যরাতেই শ্রমিকদের বেতন বাড়াল যোগী সরকার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়ডা: শ্রম আইন মেনে মজুরি বৃদ্ধি এবং উন্নত কর্মপরিবেশের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় উত্তরপ্রদেশের নয়ডা। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে শ্রমিকদের ক্ষোভ সামাল দিতে আসরে নামেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর নির্দেশে গঠিত কমিটির সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যরাতে বৈঠকের পরেই বড়সড় স্বস্তি মিলল। সমস্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি একধাক্কায় ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। আগামী ১ এপ্রিল থেকেই এই নয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে।

নয়া বেতন কাঠামো একনজরে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রশাসন যে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে:

  • গৌতম বুদ্ধ নগর এবং গাজিয়াবাদ: অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১১,৩১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩,৬৯০ টাকা করা হয়েছে। আংশিক দক্ষ শ্রমিকরা পাবেন ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি হবে ১৬,৮৬৮ টাকা।

  • পুরসভা এলাকা: এই অঞ্চলগুলিতে অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি বেড়ে হল ১৩,০০৬ টাকা। আংশিক দক্ষ শ্রমিকরা পাবেন ১৪,৩০৬ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬,০২৫ টাকা।

  • অন্যান্য জেলা: বাকি জেলাগুলির ক্ষেত্রে অদক্ষ, আংশিক দক্ষ এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি হবে যথাক্রমে ১২,৩৫৬ টাকা, ১৩,৫৯১ টাকা এবং ১৫,২২৪ টাকা।

আন্দোলনের সূত্রপাত ও অন্যান্য দাবিদাওয়া সম্প্রতি পড়শি রাজ্য হরিয়ানা সরকার অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এরপর থেকেই নয়ডার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। তাঁদের দাবি ছিল, একই কাজের জন্য দুই রাজ্যে মজুরির হার ভিন্ন হওয়া চরম বৈষম্যের শামিল। মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকরা অভিযোগ তোলেন, অনেক কারখানাতেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, সাপ্তাহিক ছুটি নিয়মিত মেলে না এবং সমস্যা নিষ্পত্তির কোনো উপযুক্ত পরিকাঠামোও নেই।

বিক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপ গত কয়েকদিন ধরে চলা এই বিক্ষোভ সোমবার সকালে চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা হিংস্র হয়ে উঠে বহু গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের লক্ষ্য করেও ইট-বৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে হয়।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দ্রুত সমাধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে ক্ষোভ প্রশমিত করার নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতাতেই মধ্যরাতের বৈঠকে মেলে রফাসূত্র, আর তার জেরেই ভোটের আবহে বড়সড় বেতন বৃদ্ধির মুখ দেখলেন উত্তরপ্রদেশের হাজার হাজার অসংগঠিত শ্রমিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *