৪ মাস মেয়ের দেহ আগলে বসে রইলেন বাবা, ঘর থেকে উদ্ধার কঙ্কাল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মিরাট: কলকাতার সেই হাড়হিম করা রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি এবার উত্তরপ্রদেশের মিরাটে। মৃত মেয়ের নিথর দেহ আগলে চার মাস কাটালেন বাবা। পচনের গন্ধ ঢাকতে ঘরে ছড়ানো হতো সুগন্ধি। শেষ রক্ষা হলো না, অবশেষে ঘর থেকে উদ্ধার হলো ৩৪ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসের কঙ্কাল। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
রহস্যের সূত্রপাত
মিরাটের বাসিন্দা উদয়ভানু বিশ্বাস ও তাঁর কন্যা প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস দীর্ঘকাল ধরেই নিভৃতবাসে ছিলেন। ২০১৩ সালে উদয়ভানুর স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই বাবা ও মেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত চার মাস ধরে ওই বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় তাঁদের দেখা না মেলায় ধন্দ তৈরি হয়েছিল স্থানীয়দের মনে।
অসঙ্গতি ও পর্দা ফাঁস
সম্প্রতি উদয়ভানুকে পাড়ার একটি চায়ের দোকানে দেখা গেলে আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা প্রিয়াঙ্কার খোঁজ নেন। উদয়ভানু প্রথমে দাবি করেন, প্রিয়াঙ্কা অসুস্থ এবং দেরাদুনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু তাঁর কথা বলার ধরনে অসঙ্গতি ধরা পড়লে আত্মীয়রা তাঁকে চেপে ধরেন। চাপের মুখে ভেঙে পড়ে উদয়ভানু স্বীকার করেন—প্রিয়াঙ্কা আর নেই, এবং তাঁর দেহ ঘরের ভিতরেই রয়েছে। ঘরে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতেই শিউরে ওঠেন সকলে। দেখা যায়,ঘরের এক কোণে পড়ে রয়েছে প্রিয়াঙ্কার কঙ্কাল। পচনের দুর্গন্ধ আটকাতে ঘরজুড়ে নিয়মিত পারফিউম বা সুগন্ধি ছিটানো হতো। ঘরভর্তি পুরনো কাগজ আর আবর্জনার স্তূপ।
মানসিক অবসাদের করুণ পরিণতি?
প্রিয়াঙ্কার তুতো ভাই বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর মা দুজনেই দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর বাবা ও মেয়ে সমাজ থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মাস চারেক আগে অসুস্থতার কারণেই প্রিয়াঙ্কার মৃত্যু হয়েছিল, কিন্তু মায়ার টানে বা মানসিক বিকৃতির কারণে সেই দেহ সৎকার না করে আগলে বসেছিলেন বৃদ্ধ বাবা।
পুলিশের বয়ান: পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। উদয়ভানু বিশ্বাসের মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেয়ের মৃত্যুর ঠিক কতদিন পর পর্যন্ত তিনি ওই ঘরে মৃতদেহের সঙ্গে ছিলেন, তা তদন্ত সাপেক্ষ।
