Lok Sabha : ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেই লোকসভায় পাস ‘পাবলিক একজামিনেশন সংশোধনী বিল’, সংসদে ধর্মেন্দ্রকে রাজকীয় অভ্যর্থনা !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশি লাঠিচার্জ ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদের মধ্যেই সোমবার লোকসভায় পাস হল ‘পাবলিক একজামিনেশন সংশোধনী বিল ২০২৬’ বা ‘প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল’। একই দিনে শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফার পর প্রথম সংসদে এসে বিজেপির বিশেষ সম্মান পেলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
লোকসভায় ‘পাবলিক একজামিনেশন সংশোধনী বিল ২০২৬’ পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। বিল পেশ হওয়া মাত্রই সোচ্চার হয় বিরোধী শিবির। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারে ব্যর্থ হয়ে শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্যই এই বিল আনছে মোদি সরকার।
কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, “আমরা দেখেছি প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তরা প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্তদের রক্ষায় সরকার তৎপর হলে এই ফাস্ট-ট্র্যাক বিলে লাভ কী? এরা এখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সফল শিক্ষামন্ত্রী বলে মনে করে।” একই সঙ্গে ২০ জুলাই ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও প্যালেট গান ব্যবহারের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাবদিহি করার দাবি তোলেন বিরোধীরা।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “আন্দোলনে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে পুলিশ। সাদা পোশাকে কারা মারল ছাত্রদের? ওরা কি আরএসএসের গুন্ডা? দিল্লির বুকে পড়ুয়াদের উপর কীভাবে প্যালেট গান চালায় পুলিশ?” প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, “পড়ুয়ারা কি জঙ্গি যে তাদের উপর প্যালেট গান ব্যবহার হচ্ছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব না দেওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।” বিক্ষোভের জেরে দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের দুই কক্ষ।
বিল পেশের আগে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে এই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পাশ করানো আমাদের অগ্রাধিকার।”
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফার পর সোমবার প্রথম সংসদে আসেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। মকরদ্বারের সামনে বিজেপি সাংসদরা তাঁর মাথায় পাগড়ি পরিয়ে এবং গলায় উত্তরীয় দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সূত্রের খবর, এই সংবর্ধনার মাধ্যমে সরকারের বার্তা স্পষ্ট যে পড়ুয়াদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে তিনি পদত্যাগ করলেও দল ও সরকার তাঁর পাশে আছে। বার্তা এটাও যে প্রধানমন্ত্রীর চাপে নয়, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
একদিকে প্রশ্নফাঁস রুখতে সরকারের কড়া আইন, অন্যদিকে ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সরকার-বিরোধী সংঘাত। বিল পাস হলেও সংসদে জবাবদিহির লড়াই এখনও জারি।
