আজকের দিনেতিলোত্তমা

তারাতলা বিপর্যয়: লালবাজারের জোড়া চিঠি পুরনিগম ও পোর্ট ট্রাস্টকে

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং একাধিক মানুষের গুরুতর আহত হওয়ার রেশ কাটেনি এখনও। কীভাবে ঘটল তারাতলার এই ভয়াবহ বিপর্যয়? কোন গাফিলতিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ গুদাম? সেই আসল কারণ খুঁজে বের করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তের স্বার্থে এবার কলকাতা পৌরনিগম এবং পোর্ট ট্রাস্টকে জোড়া চিঠি পাঠাল লালবাজার।

পুরনিগম ও পোর্ট ট্রাস্টের কাছে নথি চাইল SIT

তদন্তের জাল গুটিয়ে আনতে সিটের আধিকারিকরা মূলত এই প্রকল্পের আইনি ও প্রযুক্তিগত দিকগুলি খতিয়ে দেখতে চাইছেন।

  • কলকাতা পৌরনিগমকে চিঠি: এই গুদাম নির্মাণের জন্য ঠিক কী প্ল্যান বা নকশা জমা দেওয়া হয়েছিল এবং তার সপক্ষে কী কী নথি ছিল, তা স্পষ্ট করে জানতে চাওয়া হয়েছে পুরনিগমের কাছে।

  • পোর্ট ট্রাস্টকে চিঠি: গুদামটি তৈরির আগে নিয়ম মেনে মাটির ধারণক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে পোর্ট ট্রাস্টের কাছ থেকে।

মুখ খুলছেন না ধৃতরা, নথিতেই ভরসা পুলিশের

তারাতলা বিপর্যয়ের পরই অ্যাকশনে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই গুদামের মালিক তথা প্রোমোটার শম্ভুনাথ বহেরাকে গ্রেফতার করেছে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পৌরনিগমের প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি  কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

সূত্রের খবর, লকআপে ধৃত এই ২ জনই তদন্তকারীদের সামনে মুখ খুলছেন না, এড়িয়ে যাচ্ছেন একাধিক প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে ধৃত বহেরা ব্রাদার্সের অফিস ও বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্রই এখন সিটের প্রধান ভরসা। এই জমি লিজ নেওয়ার পিছনে পর্দার আড়ালে কোনও বড়সড় আর্থিক লেনদেন বা ‘দালালি’ ছিল কি না, কিংবা নির্মাণকাজ শেষের জন্য কোনও অনৈতিক সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

“কলকাতাকে মৃত্যুফাঁদ বানিয়েছে তৃণমূল”, বিধানসভায় হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

তারাতলা বিপর্যয়ের পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে এই নিয়ে বিধানসভায় কড়া বিবৃতি দিয়ে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে দায়ী কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তিনি বলেন— “তারাতলার এই গুদামের নকশায় ঠিক কী ধরনের ত্রুটি ছিল এবং কীভাবে তা অনুমোদন পেল, তা খতিয়ে দেখা হবে।”

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ গঠন করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি তৃণমূলকে আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দেন, “প্রোমোটারদের দিয়ে এই কলকাতাকে মৃত্যুকূপে পরিণত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের সমস্ত আন্ডার-কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং প্ল্যান আমরা অডিট করাব। তারপর দোষীদের প্রপার্টি অ্যাটাচ (সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত) করে টাকা আদায় করব। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, এই বিষয়ে সরকার একদম জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে। এক ইঞ্চিও টলারেশন আমরা করব না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *