আজকের দিনেবাংলার আয়না

৫০ বছর ধরে ছাত্রী পড়িয়ে হঠাৎই ‘বয়েজ’ স্কুল! কালনায় বিপাকে ১২০ জন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কালনা: উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিল স্কুলে। কিন্তু প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার দোরগোড়ায় এসে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল শতাধিক ছাত্রীর। শিক্ষা দফতরের পোর্টালে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো— স্কুলটি ‘কো-এড’ (সহশিক্ষামূলক) নয়, এটি শুধুই ছেলেদের স্কুল! আর এই আইনি জটেই এক লহমায় বাতিল হয়ে গেল একাদশ শ্রেণির ১২০ জন ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন। চরম উদ্বেগে দিন কাটছে ছাত্রী ও অভিভাবকদের, হতবাক খোদ শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

৫০ বছর পর ফাঁস হওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য!

নজিরবিহীন এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ নম্বর ব্লকের ঐতিহ্যবাহী বৈদ্যপুর বিদ্যাপীঠে। ১৯৭৬ সালে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, সরকারি খাতায় কোনোদিনই নাকি এই স্কুলে একাদশ-দ্বাদশে ছাত্রী ভর্তির ‘কো-এড’ অনুমোদন ছিল না!

অথচ বাস্তব ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে এই স্কুলে নিয়ম করে মেয়েরা উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছে, শিক্ষা দফতর থেকে অ্যাডমিট কার্ড পেয়েছে এবং সফলভাবে পাসও করে গিয়েছে। এমনকি চলতি শিক্ষাবর্ষেও দ্বাদশ শ্রেণিতে ২৩০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে, যাদের রেজিস্ট্রেশনে কোনো সমস্যাই হয়নি। এক ক্ষুব্ধ ছাত্রীর কথায়, “আমার মা-ও এই স্কুল থেকে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়েছে। আজ আমাদের বেলায় এমনটা হবে ভাবিনি।”

কেন তৈরি হলো এই বিপত্তি?

শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষা দফতরের পোর্টাল আপডেট হতেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পোর্টালে ছাত্রী ভর্তির অপশন ব্লক থাকায় একসঙ্গে ১২০ জন ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যায়।

সময় কম, বাড়ছে উদ্বেগ: রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এই পরিস্থিতিতে অন্য কোনো স্কুলে নতুন করে ভর্তি হওয়ার সুযোগও প্রায় নেই। ফলে ছাত্রীদের একটি গোটা বছর নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় ভুগছে পরিবারগুলি।

“১৯৭৬ থেকে কো-এড ছিল, ২০২৬-এ জানলাম বয়েজ!” হতবাক প্রধান শিক্ষক

গোটা ঘটনায় সম্পূর্ণ ধোঁয়াশায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন—“১৯৭৬ সাল থেকে এই স্কুল কো-এড হিসেবেই চলে আসছে। অথচ ২০২৬-এ এসে হঠাৎ জানতে পারছি এটা নাকি বয়েজ স্কুল! এ ব্যাপারে আমাদের আগে কোনো ইনটিমেশন বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। দ্বাদশ শ্রেণির ২৩০ জন ছাত্রীরও কোনো অসুবিধা হয়নি। সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এই ১২০ জন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হোক।”

শিক্ষা দফতরের ভূমিকা

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পরই জেলা শিক্ষা দফতরসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হয়েছে। চলতি বছরের ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দ্রুত কো-এডের অনুমোদন দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ওপর মহল থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এই প্রসঙ্গে মহকুমা শিক্ষা আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিষয়টি শিক্ষা দফতর খতিয়ে দেখবে। টেকনিক্যাল পোর্টালের একটি ভুলের খেসারত কেন দিতে হবে ছাত্রীদের? শিক্ষা দফতর কি বিশেষ অনুমতি দিয়ে এই ১২০ জন ছাত্রীর বছর বাঁচাবে? এখন সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে কালনার বৈদ্যপুর বিদ্যাপীঠের শতাধিক ছাত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *